📌 অসুন্দর দেখতে হওয়ায় সমাজে যার কোনো মূল্য ছিল না, সেই জুলাইবিবকে নিজেই বিয়ে দেন নবীজি। যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়ে শহীদ হন তিনি। নবীজি তাঁর মৃতদেহ নিজ হাতে বহন করে কবর দেন। ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন জুলাইবিব
মদিনার সমাজে যাঁকে কেউ পাত্তা দিতেন না, গোনায় ধরতেন না, সেই জুলাইবিবকে নিজেই বিয়ে দেন মহানবী (সা.)। তাঁর অন্তরের সৌন্দর্য দেখেছিলেন নবীজি। নিজের মেয়েকে জুলাইবিবের কাছে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব শুনে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে যান মেয়ের বাবা। পরে মেয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তে সম্পন্ন হয় সেই বিবাহ। যুদ্ধক্ষেত্রেও অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করেন জুলাইবিব। তাঁর মৃতদেহ ঘিরে পাওয়া যায় সাত শত্রুর লাশ। শহীদদের মিছিলে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন নবীজি। নিজ হাতে বহন করে নিয়ে যান তাঁর মৃতদেহ। ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন জুলাইবিব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সমাজে অখ্যাত ও অসুন্দর দেখতে হওয়ায় জুলাইবিবকে কেউ বিবেচনা করতেন না
- 📌 নবীজি (সা.) নিজেই জুলাইবিবের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে বের করেন
- 📌 মেয়ের বাবা প্রথমে রাজি না হলেও মেয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তে সম্পন্ন হয় বিবাহ
- 📌 যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়ে শহীদ হন জুলাইবিব
- 📌 তাঁর মৃতদেহ ঘিরে পাওয়া যায় সাত শত্রুর লাশ
- 📌 নবীজি নিজ হাতে বহন করেন তাঁর মৃতদেহ এবং নিজেই গোসল করান
📰 বিস্তারিত
মদিনার সমাজে জুলাইবিব ছিলেন প্রায় অদৃশ্য এক মানুষ। দেখতে অসুন্দর হওয়ায় কেউ তাঁকে বিবেচনা করতেন না। এমনকি তাঁর বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও কেউ রাজি ছিল না। কিন্তু মহানবী (সা.) তাঁর অন্তরের সৌন্দর্য দেখেছিলেন। একদিন জুলাইবিবকে ডেকে তিনি জানতে চান, তিনি বিয়ে করতে চান কিনা। অবাক হয়ে যান জুলাইবিব। নিজেকে অযোগ্য মনে করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মেয়ে বিয়ে দেবে কে?’
নবীজি (সা.) তখন সরাসরি চলে যান এক আনসারি পরিবারের কাছে। মেয়ের বাবাকে তিনি জানান, তাঁর মেয়েকে তিনি বিয়ে দিতে চান। ভেবেছিলেন, নবীজি নিজেই বিয়ে করতে চান। কিন্তু নবীজি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজে নয়, জুলাইবিবের কাছে মেয়েকে বিয়ে দিতে চান। মেয়ের বাবা স্তম্ভিত হয়ে যান। স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি রাজি হন। কিন্তু স্ত্রী রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান তিনি।
এদিকে খবরটি পৌঁছে যায় মেয়ের কাছে। নিজের বিয়ে নিয়ে মেয়েদের কথা বলা তখনকার সমাজে ছিল সাধারণ ব্যাপার। মেয়ে জানতে চান, প্রস্তাবটি কি মহানবী (সা.) নিজেই দিয়েছেন। উত্তর আসে, হ্যাঁ। মেয়ে তখন বলেন, ‘তাহলে আর সময় নষ্টের কোনো অর্থ হয় না।’ বিবাহ সম্পন্ন হয়। যুদ্ধক্ষেত্রেও অসাধারণ বীরত্ব দেখান জুলাইবিব। তাঁর মৃতদেহ ঘিরে পাওয়া যায় সাত শত্রুর লাশ। শহীদদের মিছিলে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন নবীজি। তিনি বলেন, ‘আমি তো জুলাইবিবকে খুঁজে পাচ্ছি না।’
“সে আমার, আর আমি তার।”
নবীজি নিজ হাতে বহন করেন তাঁর মৃতদেহ। শহীদদের গোসল দেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় তিনি নিজেই তাঁকে কবর দেন। ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন জুলাইবিব। তাঁর নামডাক ছিল না মদিনায়। সহায়-সম্পত্তিও ছিল না। তবু তিনি পেয়েছেন নবীজির এমন স্বীকৃতি, যার মূল্য এই পৃথিবীর সব সম্পদের চেয়ে বেশি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদিনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জুলাইবিব, মহানবী (সা.), মেয়ের বাবা, মেয়ে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাতজন শত্রু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!