📌 মক্কায় বাবা-মা হারিয়ে ফেলে নবীজি (সা.) কাবার ছায়ায় দাদা আবদুল মুত্তালিবের স্নেহে বেড়ে ওঠেন। কাবার বিশেষ আসনে বসার মর্যাদা পান তিনি। হারানো উটের খোঁজে পাঠানো কাজেও সফল হন। দাদার মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব নবীজির লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন
মক্কার কাবার ছায়ায় বেড়ে ওঠা নবীজির (সা.) শৈশবের গল্পে আল্লাহর আশ্রয় ও দাদা আবদুল মুত্তালিবের স্নেহের অদ্বিতীয় পরিচয় পাওয়া যায়। বাবা-মা হারিয়ে ফেলে ছোট্ট মুহাম্মদ (সা.) কাবার আঙিনা ও দাদার গৃহে নিজের নিকেতন হিসেবে গড়ে তুলেন। কাবার বিশেষ আসনে বসার মর্যাদা পান তিনি, যা দাদার সম্মানার্থে সংরক্ষিত ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কাবার বিশেষ আসনে বসার মর্যাদা পান নবীজি (সা.) — দাদা আবদুল মুত্তালিবের সম্মানার্থে সংরক্ষিত আসনে তিনি একমাত্র বসতেন
- 📌 দাদা আবদুল মুত্তালিব নবীজিকে সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখতেন — ঘুমাতেন না, বের হতেন না ছাড়া বালককে
- 📌 হারানো উটের খোঁজে পাঠানো কাজেও সফল হন নবীজি — দাদা আবদুল মুত্তালিবের নাতিকে ফিরিয়ে আনেন
- 📌 দাদার মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব নবীজির লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন — ওসিয়ত অনুযায়ী
- 📌 আল্লাহর আয়াতে স্মরণ করা হয় নবীজির এতিম অবস্থা — 'তিনি কি আপনাকে এতিম অবস্থায় পাননি?' (সুরা দোহা, আয়াত: ৬)
📰 বিস্তারিত
মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণের পরেই বাবা আবদুল্লাহ ও মা আমিনার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর মক্কায় ফিরে ছোট্ট মুহাম্মদ (সা.) দাদা আবদুল মুত্তালিবের স্নেহতলে আসেন। দাদা তাঁকে কাবার আঙিনা ও নিজের বাসভবনে আশ্রয় দেন। কাবার ভেতরে প্রবেশের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে দাদার সঙ্গে কাবার ছায়ায় বেড়ে ওঠা নবীজির জীবন ছিল আল্লাহর আশ্রয়ের প্রতীক।
দাদা আবদুল মুত্তালিব নবীজিকে সার্বক্ষণিক নিজের সঙ্গে রাখতেন। তিনি যখন ঘুমাতেন, তখন সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দিতেন না। নিজে কখনো নবীজিকে পাশে ছাড়া ঘুমাতেন না; ঘর থেকে নবীজিকে ছাড়া বের হতেন না। দাদার একটি বৈঠকখানা ছিল, যাতে নবীজি (সা.) ছাড়া কাউকে বসতেন দিতেন না। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুযায়ী, কাবার ছায়ায় দাদা আবদুল মুত্তালিবের জন্য বিশেষ একটি আসন ছিল। দাদার সম্মানার্থে তাঁর কোনো সন্তান এ আসনে বসতেন না। নবীজি সেখানে এসে সে আসনেই বসতেন। চাচারা তাঁকে সেই আসন থেকে নামিয়ে দিতে চাইলে দাদা বলতেন, 'আমার এই বৎসকে ছেড়ে দাও!' এবং তাঁর পিঠে পরশ বুলিয়ে বলতেন, 'আমার এই সন্তানটির উচ্চ মর্যাদা রয়েছে।'
দাদা আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর নবীজির বয়স ছিল আট বছর। এই সময়ে তিনি হারানো উটের খোঁজে পাঠানো কাজেও সফল হন। জাহিলি যুগে হজ করার সময় একজন ব্যক্তি কাবার চারদিকে তাওয়াফ করছিলেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলছিলেন, 'হে রব, আমার অশ্বারোহী মুহাম্মদকে ফিরিয়ে দাও, তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও এবং আমার একটি হাতে পরিণত করো।' কথা বলতে না বলতেই নবীজি (সা.) উট নিয়ে হাজির হন। দাদা আবদুল মুত্তালিব বলেন, 'নাতি আমার, আমি তোমার জন্য নারীদের ন্যায় দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম; এমন এক দুশ্চিন্তা, যা আমাদের কাছ থেকে কখনো দূর হওয়ার নয়।'
দাদার মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব নবীজির লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বৃদ্ধ আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুর আগে ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন, 'আবু তালিবকেই সেই ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন।' চাচার সঙ্গে নবীজির (সা.) জীবনের স্মৃতি অগণিত।
"আমার এই বৎসকে ছেড়ে দাও!"
"আমার এই সন্তানটির উচ্চ মর্যাদা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মক্কা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল মুত্তালিব, মুহাম্মদ (সা.), আবু তালিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বছর (নবীজির বয়স দাদার মৃত্যুর সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!