📌 ১৯ অক্টোবর ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে মহা অষ্টমীতে শুরু হয় কুমারীপূজা। ৬ বছর বয়সী শিশু ইর্যা চক্রবর্তীকে 'উমা' নামে দেবীর আসনে বসিয়ে পূজা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দের উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও নারী সম্মানের বার্তা জোরালোভাবে প্রকাশ পায়
১৯ অক্টোবর ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে মহা অষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভোর ৬টা ১০ মিনিটে রামকৃষ্ণ মিশনে মহা অষ্টমীর পূজা দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এই দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল কুমারীপূজা, যা বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টার দিকে শেষ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে ১৯ অক্টোবর মহা অষ্টমীর কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৬ বছর বয়সী শিশু ইর্যা চক্রবর্তীকে 'উমা' নামে দেবীর আসনে বসানো হয়
- 📌 এই পূজার ঐতিহ্য শুরু হয় স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে, যিনি ব্রাহ্মণকন্যা ছাড়াও অব্রাহ্মণ ও অহিন্দু কুমারীকেও পূজা করেছিলেন
- 📌 কুমারীপূজার সময় ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কন্যাদের বিভিন্ন নামে ভূষিত করা হয়, যেমন ৬ বছর বয়সীকে 'উমা', ১২ বছর বয়সীকে 'ভৈরবী' ইত্যাদি
- 📌 ভক্তরা মা দুর্গার কাছে দেশের শান্তি ও নারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করেন
📰 বিস্তারিত
রামকৃষ্ণ মিশনে মহা অষ্টমীর কুমারীপূজা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি উল্লেখ করেন, বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের সময়ে। সেই সময় তিনি নিজে অংশ নেন ৯টি কুমারী পূজার মধ্যে একটিতে। পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, এই পূজার পরিধি অত্যন্ত উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। স্বামী বিবেকানন্দ ব্রাহ্মণকন্যা ছাড়াও অব্রাহ্মণ এমনকি অহিন্দু কুমারীকেও পূজা করেছিলেন। এই পূজার মূল শিক্ষা হলো মানববন্দনা, নারীজাতির সম্মান ও ঈশ্বরের নিভৃত আরাধনা।
এবারের কুমারীপূজায় ৬ বছর বয়সী শিশু ইর্যা চক্রবর্তীকে 'উমা' নামে দেবীর আসনে বসানো হয়। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কন্যাদের বিভিন্ন নামে ভূষিত করা হয়। যেমন, এক বছর বয়সীকে 'সন্ধ্যা', দুই বছর বয়সীকে 'সরস্বতী', তিন বছর বয়সীকে 'ত্রিমূর্তি', চার বছর বয়সীকে 'কলিকা', পাঁচ বছর বয়সীকে 'সুভাগা' এবং ছয় বছর বয়সীকে 'উমা' বলা হয়।
কুমারীপূজার সময় কন্যাকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। তারপর তাকে সুদৃশ্য অলংকার, কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা এবং হাতে ফুল দিয়ে সাজিয়ে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয়। ষোড়শোপচারে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এই সময় ভক্তরা কুমারীকে প্রণাম করে নিজেদের জীবন ও পরিবারের কল্যাণ কামনা করেন।
"মহাষ্টমীর এই পবিত্র লগ্নে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছি যেন আমাদের দেশ সব ধরনের অন্ধকার ও হানাহানি থেকে মুক্তি পায়।"
ভক্তদের মধ্যে অনেকে এই অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন। সুব্রত কর্মকার বলেন, প্রতিবছর মহাষ্টমীতে তিনি পরিবার নিয়ে এখানে আসেন। কুমারী পূজার এই রূপটি দেখার অনুভূতি অন্যরকম, চোখের সামনে যেন স্বয়ং মা দুর্গার উপস্থিতি অনুভব করা যায়। তিনি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন, যেন পরিবারে সুখ ও শান্তি বজায় থাকে এবং দেশের সব মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, রামকৃষ্ণ মিশন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ, স্বামী বিবেকানন্দ, ইর্যা চক্রবর্তী (উমা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ বছর (ইর্যা চক্রবর্তী), ১১ টা (কুমারীপূজা শুরু), ১ টা (কুমারীপূজা শেষ), ২ থেকে ১২ বছর (কুমারী বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!