📌 ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৮ হিজরি পূর্ব) কাবা শরিফের পুনর্নির্মাণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কাঠামোগত দুর্বলতা ও গোত্রীয় বিরোধের কারণে সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিলে মুহাম্মদ (সা.) বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান দিয়ে মক্কার গোত্রগুলোর একত্রীকরণে ভূমিকা রাখেন। কাবার পুনর্নির্মাণের সময় সাপ, আগুন, পাহাড়ি ঢল ও স্বর্ণভাণ্ডারের চুরির মতো অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা ছিল
৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৮ হিজরি পূর্ব) মক্কার কেন্দ্রীয় উপাসনালয় কাবা শরিফের পুনর্নির্মাণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং কোরাইশ গোত্রগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধের কারণে সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিলে মুহাম্মদ (সা.) একটি সহজ কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান দিয়ে মক্কার গোত্রগুলোর একত্রীকরণে ভূমিকা রাখেন। এই ঘটনাই তাঁকে মক্কার সব গোত্রের কাছে অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৮ হিজরি পূর্ব) কাবা শরিফের পুনর্নির্মাণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আগুন, পাহাড়ি ঢল এবং গোত্রীয় বিরোধের কারণে সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
- 📌 কাবার পুনর্নির্মাণের আগে এর উচ্চতা ছিল মাত্র ৪.৫ মিটার (১৩.৫ ফুট), ছাদ ছিল না এবং দেয়াল শুকনো পাথরের গাঁথুনি দিয়ে তৈরি ছিল।
- 📌 কাবার ভেতরে একটি বিষধর সাপ এবং একটি স্বর্ণভাণ্ডারের চুরির মতো অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা ছিল।
- 📌 মুহাম্মদ (সা.) বয়স ৩৫ বছর (নবুয়ত পাওয়ার ৫ বছর পূর্বে) এই সংকট মিটিয়ে দেন এবং কাবার পুনর্নির্মাণে নেতৃত্ব দেন।
- 📌 কোরাইশ নেতা ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা প্রথম কোদাল চালিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করেন এবং বাইজেন্টাইন জাহাজ থেকে কাঠ ও স্থপতি বাকুমকে নিয়োগ করা হয়।
📰 বিস্তারিত
৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৮ হিজরি পূর্ব) কাবা শরিফের পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যন্ত জটিল। কাবার উচ্চতা ছিল মাত্র ৯ হাত (প্রায় ৪.৫ মিটার বা ১৩.৫ ফুট), চারপাশের দেয়াল ছিল শুকনো পাথরের গাঁথুনি ছাড়া কোনো মর্টার ছাড়া এবং কোনো ছাদ ছিল না। (আল-আজরাকি, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, আখবারু মাক্কা, ১/১৫৭)
পুনর্নির্মাণের কিছুদিন আগে এক কোরাইশ নারীর অসাবধানতায় ধূপের স্ফুলিঙ্গ লেগে কাবার চাদর ও কাঠামোয় আগুন লেগে পাথরের ভারবহন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৯২) এর সঙ্গে যুক্ত হয় দুটি প্রধান সংকট: প্রথমত, কাবার ভেতরে একটি বিশাল বিষধর সাপ ছিল, যা নিয়মিত দেয়ালের পাথরে উঠে ফণা তুলে হিসহিস করত। দ্বিতীয়ত, কাবার ধনভাণ্ডার চুরি হয়েছিল, কারণ কাবার ছাদ না থাকায় এবং দেয়াল নিচু হওয়ায় কাবার সেই স্বর্ণভাণ্ডার চুরি হয়ে যায়।
মক্কা নগরী একটি গভীর অববাহিকায় অবস্থিত। ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে আকস্মিক অতিবৃষ্টির ফলে উত্তর দিকের উচ্চভূমি ‘আল-মালা’ থেকে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল, যা সাইলুল জুহাফ নামে পরিচিত। এই ঢল কাবার চত্বরে প্রবেশ করে এবং কাবার দক্ষিণ ও পশ্চিম দেয়ালে গভীর ফাটল ধরিয়ে দেয়। (আল-আজরাকি, আখবারু মাক্কা, ১/১৫৬–১৫৭)
কাবার পুনর্নির্মাণের সময় কোরাইশরা যখন পাথর ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন একদিন হঠাৎ আকাশ থেকে একটি বিশাল শিকারি পাখি (ঈগল বা বাজপাখি) ছোঁ মেরে সাপটিকে নখরে তুলে নিয়ে জাবালে আজইয়াদের দিকে উড়ে যায়। কোরাইশরা এই দৃশ্য দেখে স্বস্তি পায় এবং একে শুভ লক্ষণ ধরে নিয়ে নির্মাণে এগিয়ে আসে। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৩/১২২)
কোরাইশদের শীর্ষ নেতা ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা নিজ হাতে প্রথম আঘাত করে ভাঙার কাজ শুরু করেন। গভীর পর্যন্ত খনন করার পর সেখানে উটের কুঁজের মতো পরস্পরের সঙ্গে শক্তভাবে খাঁজকাটা সবুজ পাথরের আদি ভিত্তি উন্মোচিত হয়। বাইজেন্টাইন কাঠ ও স্থপতি বাকুম মরু মক্কায় ছাদ নির্মাণের উপযোগী কাঠ বা দক্ষ রাজমিস্ত্রি ছিল না। এ সময় লোহিত সাগরের উপকূলীয় শুআইবা বন্দরে একটি বাইজেন্টাইন বাণিজ্যিক জাহাজ ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়, যাতে শামের কোনো গির্জার জন্য প্রস্তুত করা কাঠ ও মার্বেল ছিল। ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে গিয়ে সেই কাঠ কিনে মক্কায় আনেন। জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে একজন বাইজেন্টাইন স্থপতি ও কাঠমিস্ত্রি ছিলেন বাকুম নাম। তাঁকে কাবার মূল স্থপতি ও কাঠমিস্ত্রি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনিই প্রথম রোমান ধাঁচে কাঠ ও পাথরের স্তরীভূত গাঁথুনি দিয়ে কাবার ছাদ ও দেয়ালের নকশা প্রস্তুত করেন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১৪৫)
"এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) কেবল বনু হাশিমের প্রতিনিধি রইলেন না; বরং তিনি সমগ্র মক্কার গোত্রগুলোর যৌথ আস্থাভাজন একমাত্র জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মক্কা নগরী, মক্কার কেন্দ্রীয় উপাসনালয় কাবা শরিফ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ (সা.), ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা, বাকুম (বাইজেন্টাইন স্থপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ, ১৮ হিজরি পূর্ব, ৩৫ বছর বয়স, ৪.৫ মিটার উচ্চতা, ১৩.৫ ফুট, ৮০ কিমি দূরত্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!