📌 আদালতের কার্যক্রম উন্মুক্ত রাখা জনগণের জানার অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা, দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা এবং সংবিধানের ৩৫(৩) ও ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি
আদালতের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৫২ ধারা অনুসারে আদালতকে ‘ওপেন কোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে। একইভাবে, দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার চতুর্থ ব্যতিক্রমে আদালতের কার্যক্রমের সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশকে মানহানির অপরাধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদেও ফৌজদারি মামলায় ‘পাবলিক ট্রায়াল’-এর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আদালতের কার্যক্রম উন্মুক্ত রাখা জনগণের জানার অধিকার ও বিচারিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত
- 📌 ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুসারে আদালতকে ‘ওপেন কোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়
- 📌 দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার চতুর্থ ব্যতিক্রমে আদালতের কার্যক্রমের সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশকে মানহানির অপরাধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে
- 📌 সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে ফৌজদারি মামলায় ‘পাবলিক ট্রায়াল’-এর নিশ্চয়তা রয়েছে
- 📌 সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আইনজীবী ছাড়া অন্যদের এজলাসে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে
- 📌 ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তার কারণে প্রবেশ সীমিত করার কথা বলা হয়
- 📌 ২০২৬ সালের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিক সংগঠনগুলো জানায়, সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৫২ ধারা অনুসারে আদালতকে ‘ওপেন কোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে। তবে বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট মামলায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার চতুর্থ ব্যতিক্রমে আদালতের কার্যক্রমের সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশকে মানহানির অপরাধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে ফৌজদারি মামলায় ‘পাবলিক ট্রায়াল’-এর নিশ্চয়তা রয়েছে।
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকরা আদালতে গিয়ে বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আইনজীবী ছাড়া অন্যদের এজলাসে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপত্তার কারণে প্রবেশ সীমিত করার কথা বলা হয়।
২০২৬ সালের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট বিটের সাংবাদিক সংগঠনগুলো জানায়, সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, বিগত ৭ জানুয়ারি থেকে সাংবাদিকদের আপিল বিভাগের এজলাসে পূর্বানুমতি ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঠিক সংবাদ সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।
"আদালতের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, বিচারকার্যের স্বাভাবিক পরিবেশ, সাক্ষীর গোপনীয়তা, শিশু বা সংবেদনশীল মামলার স্বার্থ কিংবা অন্য কোনো আইনগত কারণে নির্দিষ্ট শুনানি সীমিত করা যেতে পারে। যার অসংখ্য নজির ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে। কিন্তু সাধারণ নিয়ম হিসেবে সাংবাদিকদের এজলাস কক্ষ থেকে দূরে রাখা এবং এ–সংক্রান্ত ব্যতিক্রমকে নিয়মে পরিণত করা আদালতের ‘ওপেন জাস্টিস’–এর দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাংবাদিকদের, ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫২, ৪৯৯, ৩৫(৩), ৩৯, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মে ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!