📌 ইসলামে নারীকে সহানুভূতিশীলভাবে দেখতে পারা মানবিক প্রবণতা, কিন্তু অন্যায় পক্ষপাতিত্ব থেকে আলাদা। নবী (সা.) ও সাহাবা (রা.) এর আদর্শে নারীর অধিকার ও সুরক্ষা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশে দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়ানোর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে
নারীর প্রতি সহানুভূতি ও তাদের দুর্দশায় ব্যথিত হওয়া মানুষের একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রবণতা। কিন্তু ইসলামে এই অনুভূতি কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং কীভাবে এটি অন্যায় পক্ষপাতিত্ব থেকে আলাদা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ইসলামের নীতিশাস্ত্রে ‘আসাবিয়া’ বা অন্যায় পক্ষপাতিত্বের সংজ্ঞা এবং নবী (সা.) এর আদর্শের দিকে তাকাতে হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসলামে নারীকে সহানুভূতিশীলভাবে দেখতে পারা মানবিক প্রবণতা, কিন্তু অন্যায় পক্ষপাতিত্ব থেকে আলাদা — ‘আসাবিয়া’ শব্দটি নির্দেশ করে সত্য-ইনসাফ ত্যাগ করে নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ নেওয়া।
- 📌 সাহাবি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: ‘নিজ জাতিকে ভালোবাসা আসাবিয়্যাহ নয়, বরং অন্যায়ে তাদের সহায়তা করা আসাবিয়্যাহ।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫১১৯)
- 📌 ইসলামের কেন্দ্রীয় চেতনা হলো ‘আদল’ (ন্যায়বিচার) — আল্লাহর নির্দেশে দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 নবী (সা.) বলেছেন: ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; কেননা তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)।
- 📌 কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া এমন জাহেলি সমাজে ইসলাম নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে — তাদের সুরক্ষা, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা স্বীকৃতি দেয়।
📰 বিস্তারিত
ইসলামে নারীকে সহানুভূতিশীলভাবে দেখতে পারা মানবিক প্রবণতা, কিন্তু অন্যায় পক্ষপাতিত্ব থেকে আলাদা। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ‘আসাবিয়া’ শব্দটি ব্যাখ্যা করেছেন: এটি সত্য ও ইনসাফ ত্যাগ করে নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ নেওয়া। কিন্তু নিপীড়িতদের প্রতি সহজাত মায়া বা সমবেদনা পোষণ করা কখনোই আসাবিয়্যাহ নয়। সাহাবি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘নিজ জাতিকে ভালোবাসা আসাবিয়্যাহ নয়, বরং অন্যায়ে তাদের সহায়তা করা আসাবিয়্যাহ’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫১১৯)।
ইসলামের কেন্দ্রীয় চেতনা হলো ‘আদল’ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। আল্লাহর নির্দেশে দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছ না সেই অসহায়-মজলুম পুরুষ, নারী ও শিশুদের মুক্তির জন্য—যারা ফরিয়াদ করে বলছে: “হে আমাদের রব, এই অত্যাচারীদের জনপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণ করে দিন, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী পাঠান?”’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৫)।
ইসলামের আবির্ভাব ঘটেছিল এমন এক জাহেলি সমাজে, যেখানে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো এবং নারীকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নবী (সা.) এই সমাজে বিপ্লব ঘটিয়ে নারীর নিরাপত্তা, সম্মান, সম্পত্তিতে অধিকার এবং মানবিক মর্যাদার অকাট্য স্বীকৃতি দেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; কেননা তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)। সফরে উটচালকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘সাবধানে চালাও, কাচের পাত্রদের (নারীদের) যেন কষ্ট না হয়’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৪৯)।
"হে আমাদের রব, এই অত্যাচারীদের জনপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণ করে দিন, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী পাঠান?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহেলি সমাজ, মদিনা, মিসর (আল-কুরতুবি, আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.), ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.), মুহাম্মদ (সা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: হাদিস ৫১১৯ (সুনানে আবু দাউদ), আয়াত ৭৫ (সুরা নিসা), হাদিস ১২১৮ (সহিহ মুসলিম), হাদিস ৬১৪৯ (সহিহ বুখারি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!