📌 হজের তাওফিক পাওয়ার জন্য প্রিয় নবীজি (সা.) ও হজরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক বলা তিনটি দোয়া ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। হজের নিয়ত, নিয়মিত দোয়া ও সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট হজের তাওফিক লাভ করা যায়
হজের তাওফিক লাভের জন্য আল্লাহর নিকট মাবরুর ও মাকবুল হজের নিশ্চয়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী। হজের তাওফিক পাওয়ার জন্য তিনটি মূল দোয়া ও আমল উল্লেখ করেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মারযুকনা হাজ্জান মাবরুরা’ — অর্থ ‘হে আল্লাহ! আমাদের হজে মাবরুর নসিব করুন’। এই দোয়া পাঠ করলে হজের তাওফিক লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- 📌 বায়তুল্লাহ পুনর্নির্মাণের সময় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) কর্তৃক পাঠিত দোয়া: ‘রব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতান লাকা’ — অর্থ ‘হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার অনুগত একটি জাতি তৈরি করুন’।
- 📌 হজের তাওফিক পাওয়ার জন্য তিনটি মূল আমল: ১) হজের নিয়ত করা, ২) নিয়মিত দোয়া করা, ৩) সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা।
- 📌 রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হজ পালনকারী ব্যক্তি কখনো নিঃস্ব হবে না’ — হজের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর হয় এবং পাপমোচন হয়।
- 📌 হজ ফরজ হওয়ার পর বিলম্ব করলে সামর্থ্য হারিয়ে ফেললে বা মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহর কাছে ফরজ তরককারী হিসেবে হাজির হতে হবে।
📰 বিস্তারিত
হজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। হজের তাওফিক পাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মারযুকনা হাজ্জান মাবরুরা, ওয়া যাম্বান মাগফুরা, ওয়া সায়িয়ান মাশকুরা, ওয়া তিজারাতান লান তাবুর’। এই দোয়ার অর্থ হলো, ‘হে আল্লাহ! আমাদের হজে মাবরুর নসিব করুন, আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করুন, আমাদের সৎ প্রচেষ্টা গ্রহণ করুন এবং আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন’।
বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণের পর হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) উভয়েই পাঠিয়েছিলেন একটি বিশেষ দোয়া। সুরা বাকারা, আয়াত ১২৮-এ উল্লেখিত দোয়াটি হলো, ‘রব্বানা ওয়াজআলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন যুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতান লাকা; ওয়া আরিনা মানাসিকানা ওয়া তুব আলাইনা, ইন্নাকা আনতাত-তাওয়াবুর রহিম’। অর্থাৎ, ‘হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার অনুগত একটি জাতি তৈরি করুন। আমাদের হজের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হোন’।
হজের তাওফিক পাওয়ার জন্য তিনটি মূল আমল রয়েছে। প্রথমত, হজের নিয়ত করা। ‘হে আল্লাহ! আমি হজ করার নিয়ত করেছি। আপনি সহজ করুন ও কবুল করুন’ — এই নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, সব সময় দোয়া করতে থাকা। ‘হে আল্লাহ! আমি হজের জন্য নিয়ত করেছি। আপনি কবুল করুন এবং তাওফিক দান করুন’ — এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করতে হবে। তৃতীয়ত, সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা। অর্থাৎ, আর্থিক সংগতি অনুযায়ী সঞ্চয় করতে থাকা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরপর বা বারবার হজ ও ওমরাহ পালন করো। কারণ, এই উভয় দ্বারা দারিদ্র্য দূর হয় এবং পাপমোচন হয়, যেমন আগুন লোহা ও স্বর্ণ-রুপার ময়লা দূর করে’। হজ পালনকারী ব্যক্তি কখনো নিঃস্ব হবে না, অভাব-অনটনে পড়বে না।
"আমার ইচ্ছা হয় কিছু লোককে বিভিন্ন শহরাঞ্চল ও লোকালয়ে পাঠিয়ে দিই। তারা সেখানে গিয়ে দেখবে, কারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ করছে না। তারা তাদের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করবে; কারণ তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়।"
হজ ফরজ হওয়ার পর বিলম্ব করলে পরে সামর্থ্য হারিয়ে ফেললে বা মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহর কাছে ফরজ তরককারী অপরাধী হিসেবে হাজির হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ হজ আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ, তোমাদের কারও জানা নেই, তোমাদের পরবর্তী ভবিষ্যৎ জীবনে কী ঘটবে’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতীয় উপমহাদেশ (মোগল শাসকদের উদাহরণ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৮ (সুরা বাকারা আয়াত), ৮১০ (তিরমিজি হাদিস), ৭৩৮ (তাবরানী হাদিস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!