📌 প্রাথমিক স্কুলের বন্ধু সন্ধ্যা সিলেটে বদলি হলে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে চিঠি দেবেন বলে বললেও কখনো চিঠি আসেনি। লেখক এখন কানাডায় বসবাস করছেন এবং মনে পড়ে সেই দুর্গাপূজার বিকেলের স্মৃতি
ছোটবেলার সেই প্রিয় বন্ধু সন্ধ্যা রানির কথা মনে পড়লে মন খুবই গভীরে গেঁথে যায়। সিলেটে বাবার বদলি হলে সে চলে গেলেন, কিন্তু তার চিঠি কখনোই আসেনি। লেখক এখন কানাডায় বসবাস করছেন এবং সেই দুর্গাপূজার বিকেলের স্মৃতি নিয়ে মনে মনে ভাবতে ভাবতে কতবার কেঁদেছেন!
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রাথমিক স্কুলের বন্ধু সন্ধ্যা রানির সাথে লেখকের মধ্যে ছিল অসামান্য বন্ধুত্ব — একসাথে খেলা, গান গাওয়া, গল্প করা
- 📌 দুর্গাপূজায় লেখকের বাসায় আসার নিমন্ত্রণ ছিল লেখকের প্রথম ব্যক্তিগত নিমন্ত্রণ
- 📌 সিলেটে বাবার বদলি হলে সন্ধ্যা চলে গেলেন, কিন্তু যাওয়ার আগে চিঠি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন
- 📌 লেখক কখনোই সন্ধ্যার চিঠি পাননি, ঠিকানা জানতেন না — কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন
- 📌 লেখক এখন কানাডায় বসবাস করছেন, চশমা পরেন, চুল ছোট করে ফেলেছেন — কিন্তু মনে পড়ে সেই ছোটবেলার স্মৃতি
- 📌 ফেসবুকে সন্ধ্যার খোঁজ খবর পড়েন, মনে মনে ভাবেন কী করে সে আজ?
📰 বিস্তারিত
লেখক বলেন, প্রাথমিক স্কুলের সেই বন্ধুত্ব ছিল অসাধারণ। সন্ধ্যা রানির সাথে লেখক একই ক্লাসে পড়তেন। স্কুলের মাঝখানে বড় গাছের নিচে বসে গল্প করা, হোমওয়ার্ক করা, রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া — সবকিছুই ছিল তাদের প্রিয়। সন্ধ্যা শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন, ঘন কালো চুলে দুই বেণি করে স্কুলে আসতেন। রাজারবাগে তাদের বাসা ছিল। দুর্গাপূজায় লেখকের বাসায় আসার নিমন্ত্রণ ছিল লেখকের প্রথম ব্যক্তিগত নিমন্ত্রণ। সন্ধ্যার বাসায় গিয়ে লেখক দেখলেন, ঘরে বানানো দই, সন্দেশ, নাড়ু, পায়েস, মিষ্টি, লুচি বা পুরি — সবকিছুই ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিকেলের দিকে পূজামণ্ডপ দেখতে বের হলেন। চারদিকে পূজার আমেজ, প্রতিমা দেখতে ভিড় ঠেলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেদিনই লেখক জানলেন, সন্ধ্যার বাবা সিলেটে বদলি হয়েছে। লেখক জানতেন না, এই কথা শুনে সন্ধ্যা চলে গেলে আর তাকে আর খুঁজে পাবেনা!
ফাইনাল পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সিলেটে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে সে বলেছিলেন, ‘পৌঁছে তোকে চিঠি দেব। আব্বা পোস্ট করে দেবে’। লেখক সেই চিঠির জন্য রোজ অপেক্ষা করতেন, কিন্তু কোনো দিন চিঠি এল না। ঠিকানা জানতেন না, কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন। লেখক মনে মনে কেঁদেছেন, মন খারাপ হতো খুব। প্রাথমিক স্কুল শেষে লেখক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। নতুন স্কুলে একা বসে গল্পের বই পড়তেন, কিন্তু কথা বলার মতো কেউ ছিল না। জীবন নিজের মতো করে চলতে থাকল। স্কুল বদলেছে, নতুন মানুষ এসেছে, কেউ চলে গেছে, কেউ হারিয়ে গেছে। কিন্তু ছোটবেলার সেই বন্ধু সন্ধ্যা রানির কথা মনে পড়ে যেন কখনো ভোলা যায় না।
লেখক এখন কানাডায় বসবাস করছেন। মনে পড়ে সেই ছোটবেলার স্মৃতি — ঝালমুড়ি কিনে খাওয়া, রাস্তার পাশে ময়লা কাপড় পরা মানুষকে দেখে ভয় পাওয়ার কথা। সন্ধ্যা রানির কথা মনে পড়লে লেখক মনে মনে ভাবেন, ‘সন্ধ্যা এখন কোথায় থাকে? কী করে? ভালো আছিস তো?’ ফেসবুকে সন্ধ্যার খোঁজ খবর পড়েন, কিন্তু কখনোই তার সাথে যোগাযোগ হয়নি। লেখক বলেন, ‘আমার অবশ্য এখন আর সেই লম্বা চুল নেই রে! কানাডায় আসার পর বছরখানেক যত্ন করে রেখেছিলাম। শীতের ঠান্ডায় শেষ পর্যন্ত লম্বা চুলটা একটু মানানসই করে ছোট করে ফেলেছি।’
"‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী…’ গানটা কী সুন্দরই না গাইতাম! সন্ধ্যা, তুই খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলি। আস্তে আস্তে কথা বলতিস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজারবাগ (ঢাকা), সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখক (অনন্য), সন্ধ্যা রানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (বেণি), ১ (চিঠি), ১ (বিকেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!