📌 চট্টগ্রামের রাধাগোবিন্দ শান্তনেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে অনুষ্ঠিত কুমারীপূজায় তিন শিশুকে দেবীরূপে পূজিত করা হয়। ধর্মীয় আচারটির তাৎপর্য ও মাতৃশক্তির বন্দনা নিয়ে আলোচনা করেন মন্দিরের মোহন্ত শ্যামানন্দ দাশ
চট্টগ্রামের রাধাগোবিন্দ শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে মাতৃশক্তির পবিত্র বন্দনা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় কুমারীপূজা। সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হওয়া এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্দিরের পূজার্থীরা সমবেত হন। এই বিশেষ পূজায় তিন শিশুকে দেবীরূপে পূজিত করা হয় — রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা, ঋত্বিকা দাশ ও অদিশ্রী কর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের রাধাগোবিন্দ শান্তনেশ্বরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় কুমারীপূজা, যেখানে তিন শিশুকে দেবীরূপে পূজিত করা হয়
- 📌 পূজায় ফুল, চন্দন, বেলপাতা ও তুলসীপাতা দিয়ে শুরু হয় আচার
- 📌 মাতৃশক্তির প্রতীক হিসেবে কুমারীকে পূজা করা হয়, যা সৃষ্টির আদিশক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে
- 📌 মোহন্ত শ্যামানন্দ দাশ বলেন, কুমারীপূজা ছাড়া পূজা পরিপূর্ণ ফলদায়ক হয় না
- 📌 স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রচলিত এই আচারটি সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের রাধাগোবিন্দ শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠিত হয় কুমারীপূজা। এই পূজায় তিন শিশুকে দেবীরূপে পূজিত করা হয় — রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা, ঋত্বিকা দাশ ও অদিশ্রী কর। মাতৃশক্তির প্রতীক হিসেবে এই শিশুদের পূজা করা হয়, যাদেরকে উমা, মালিনী ও অপরাজিতা রূপে পূজিত করা হয়। পূজা-অর্চনা শুরু হয় ফুল, চন্দন, বেলপাতা ও তুলসীপাতা দিয়ে।
মন্দিরের মোহন্ত শ্যামানন্দ দাশ বলেন, ‘কুমারীপূজার মাহাত্ম্য অনেক ব্যাপক। সত্য যুগ থেকে এই পূজা চলে আসছে। কোলাসুরকে বধ করেছিলেন মা কুমারী রূপে, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অর্জুনকে মা দেখা দিয়েছিলেন কুমারী রূপে। ত্রেতা যুগে শ্রী রামচন্দ্রকে কুমারী রূপে মা দর্শন দিয়ে রাবণ বধের উপায় বলে দিয়েছিলেন। কলি যুগে শ্রীশঙ্করাচার্য কুমারী মায়ের পূজা করেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দও কুমারী মায়ের পূজা করেছিলেন।’
মোহন্ত শ্যামানন্দ দাশের মতে, কুমারীপূজা ছাড়া পূজা পরিপূর্ণ ফলদায়ক হয় না। প্রকৃতিতে মায়ের রূপ বিদ্যমান এবং মানুষের মধ্যেও নারীজাতির মধ্যে মাতৃশক্তি বিরাজমান। তিনি বলেন, ‘মাতৃরূপে নারীদের পূজা করলে সমাজে নারীদের সম্মান বাড়বে এবং শুভশক্তি জাগ্রত হবে। কুমারীপূজায় কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যেকোনো বর্ণের কুমারী পূজনীয়।’
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নারীর মধ্যে বিরাজ করেন দেবীশক্তি। সেই শক্তিরই নিষ্কলুষ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয় কুমারী। সৃষ্টির আদিশক্তিকে কুমারীর মধ্যে কল্পনা করে তাঁকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। প্রাচীন শাস্ত্রে কুমারীপূজার উল্লেখ থাকলেও আধুনিক সময়ে এই আচার নতুন তাৎপর্য লাভ করে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সাধনা ও দর্শনের মধ্য দিয়ে। তিনি তাঁর স্ত্রী সারদা দেবীকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে কুমারীপূজার প্রচলন করেন।
"বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় সাধিত হচ্ছে, বীজাকারে তা কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি ও নারীজাতির প্রতীক এবং বীজাবস্থা। তাই কুমারীতে দেবীভাব আরোপ করে তাঁর সাধনা করা হয়।"
মোহন্ত শ্যামানন্দ দাশের ভাষায়, কুমারীপূজার মধ্য দিয়ে কেবল দেবীর আরাধনাই নয়, নারীর মধ্যে নিহিত শক্তি, মর্যাদা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই পূজার মূল বার্তা হলো মাতৃশক্তির বন্দনা, যা সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও শুভবোধ জাগিয়ে তুলবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাধাগোবিন্দ শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দির, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহন্ত শ্যামানন্দ দাশ, রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা, ঋত্বিকা দাশ, অদিশ্রী কর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাড়ে ১০ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!