📌 সাহিত্য ও সম্পাদকত্বের দীর্ঘ যাত্রা নিয়ে আবুল হাসনাতের স্মরণে নরেশ গুহের লেখা চিঠি ও তার সাহিত্যিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে। ২৪ বছর ধরে 'সংবাদ'-এর সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদনা করে তিনি সাহিত্য জগতে অনন্য অবদান রেখেছেন
সাহিত্য ও সম্পাদকত্বের সংযোগে আবুল হাসনাতের জীবন ও কর্মের গভীর স্মৃতি তুলে ধরেছেন কবি-অধ্যাপক নরেশ গুহ। তাঁর সম্পাদকত্বের দীর্ঘ যাত্রা এবং সাহিত্যিক অবদানের কথা তুলে ধরে গুহের লেখা এক চিঠিতে বুদ্ধদেব বসু সাংবাদিকতার প্রতি সতর্কতা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'সাংবাদিকতা সাহিত্যের শত্রু। সাবধান!' এই কথাগুলো আবুল হাসনাতের জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ বছর ধরে 'সংবাদ'-এর সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদনা করে আবুল হাসনাত সাহিত্য জগতে অনন্য অবদান রেখেছেন।
- 📌 ১৯৯৪ সালে খ্যাতনামা কবি-প্রাবন্ধিক আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁকে সম্পাদক হিসেবে 'গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার' বলে সম্মানিত করেছেন।
- 📌 ষাটের দশক থেকে কাব্যচর্চায় অবদান রেখে তিনি 'জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক' ও 'ভুবনডাঙার মেঘ' কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে নিজের স্থান তৈরি করেছেন।
- 📌 স্মৃতিকথা 'হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে' বইয়ে তিনি নিজের জীবনের স্মৃতি তুলে ধরেছেন, যেখানে রবীন্দ্রনাথের কথাগুলোকে নতুন করে উপলব্ধি করা যায়।
- 📌 গল্প-কবিতা-উপন্যাস-প্রবন্ধ লিখেছেন 'মাহমুদ আল জামান' নামে এবং শিশু-কিশোরদের জন্য রচনা করেছেন 'ইস্টিমার সিটি দিয়ে যায়' ও 'টুকু ও সমুদ্রের গল্প'।
📰 বিস্তারিত
বুদ্ধদেব বসুর লেখা চিঠিতে সাংবাদিকতার প্রতি সতর্কতা জানানো হয়েছে। তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় সম্পাদকীয় লেখার কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র ভালোবাসা। আবুল হাসনাতের মতো অনেক লেখক দেশে পেশা বদলের সুযোগ সীমিত থাকায় তাঁর সম্পাদকত্বের দায়িত্বের কথা মনে পড়ে। তিনি ২৪ বছর ধরে 'সংবাদ'-এর সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদনা করেছেন। এরপর তিনি 'কালি ও কলম' পত্রিকার সম্পাদকতা এবং 'শিল্প ও শিল্পী' ত্রৈমাসিকের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
খ্যাতনামা কবি-প্রাবন্ধিক আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁকে সম্পাদক হিসেবে 'গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার' বলে সম্মানিত করেছেন। তিনি বলেছেন, 'আমার সমালোচনামূলক ও সমালোচনাব্যতিরেখে অনেক লেখা তাঁরই তাগিদে রচিত।' আবুল হাসনাতের কাব্যচর্চা ষাটের দশক থেকে শুরু হয়েছিল। তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'জ্যোৎস্না ও দুর্বিপাক' এবং 'ভুবনডাঙার মেঘ' পাঠকদের মনে দীর্ঘদিন অনুরণিত হবে।
তিনি 'মাহমুদ আল জামান' নামে গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। শিশু ও কিশোরদের জন্য তিনি 'ইস্টিমার সিটি দিয়ে যায়', 'টুকু ও সমুদ্রের গল্প', 'যুদ্ধদিনের ধূসর দুপুরে' এবং 'রানুর দুঃখ-ভালোবাসা' রচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি জসীমউদ্দীন ও সূর্য সেনের জীবনীও লিখেছেন।
"কবিতা লিখছি ষাটের দশক থেকে। হৃদয়, মন, মস্তিষ্ক কখনো-সখনো দিন যাপনের দুঃখ, বেদনা, কষ্ট, গ্লানি, আনন্দ কবিতা লিখতে প্রেরণা দেয়।"
আবুল হাসনাতের স্মৃতিকথা 'হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে' বইয়ে তিনি নিজের জীবনের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের কথাগুলোকে নতুন করে উপলব্ধি করা যায় এই বইয়ে। তিনি বলেছেন, 'জীবনের স্মৃতি জীবনের ইতিহাস নহে।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল হাসনাত, নরেশ গুহ, বুদ্ধদেব বসু, আবদুল মান্নান সৈয়দ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছর, ১৯৯৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!