📌 টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের একটি পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ছবিতে নিজের মেয়ে সুইটি আক্তারকে দেখে ভীত-উৎকণ্ঠায়। পরিবার জানায়, মেয়েটি ২০২৩ সালে দালালের মাধ্যমে সৌদি গিয়েছিল এবং গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়েছিল। মেয়ের সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ ছিল ১৩ অক্টোবর
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার একটি পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ছবিতে নিজের মেয়ে সুইটি আক্তারকে দেখে চরম ভীত-উৎকণ্ঠায় পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, ছবির তরুণীকে তারা নিজেদের মেয়ে বলে চিনতে পেরেছেন। তবে সুইটি আক্তার সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছেন কি না, বা তিনি বর্তমানে জীবিত আছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মেয়েটি সুইটি আক্তারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সৌদি মৃত্যুদণ্ডের ছবিতে নিজের মেয়ে বলে চিনেছেন পরিবার
- 📌 ২০২৩ সালে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার পর মেয়েটি গ্রেপ্তার হন, পরিবার জানতে পারে এক বছর পর
- 📌 মেয়ের সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ ছিল ১৩ অক্টোবর, তখন সে বলেছিল আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবে
- 📌 পরিবার দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ছবির সত্যতা যাচাই করে সুইটির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা দরকার
- 📌 মির্জাপুর থানার কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের ফজলু মিয়ার পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, ছবির তরুণীকে তারা নিজেদের ছোট মেয়ে সুইটি আক্তার বলে চিনতে পেরেছেন। তবে সুইটি আক্তারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে মা জহুরা বেগমের চোখে শুধু কান্না। তিনি বলেন, ‘আশায় বুক বাঁধছি—হয়তো মেয়ে বেঁচে আছেন। একদিন ফিরে আসবেন।’ অন্যদিকে, ফজলু মিয়া নির্বাক হয়ে অপেক্ষা করছেন মেয়ের খবরের জন্য। পরিবার জানায়, সুইটি আক্তার ২০২৩ সালে দাম্পত্য বিচ্ছেদের পর স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে চাকরির কথা বলে তাঁকে সৌদি পাঠানো হয়েছিল। এ জন্য নতু মিয়া নামে এক দালালকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সৌদি আরবে যাওয়ার পর সুইটি মক্কায় আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুইটি নিজেই পরিবারকে তাঁর গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারকে তিনি জানিয়েছিলেন, মারামারির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবে থাকা সুইটির এক বান্ধবী পরে পরিবারকে জানান, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। সুইটির বাবা ফজলু মিয়া বলেন, ‘গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। তখন সে বলেছিল, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ নেই। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ও খবর দেখে আমরা খুব ভয় পাচ্ছি। মেয়েটা বেঁচে আছে কি না, সেটাও জানি না।’
"আমার মেয়ে যদি বেঁচে থাকে, তাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। আর যদি কোনো অঘটন ঘটে থাকে, তাহলে অন্তত সত্যিটা আমাদের জানান। মেয়ের কী হয়েছে—এই চিন্তায় আমরা ঘুমাতে পারছি না।"
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সত্যতা যাচাই করে দ্রুত সুইটি আক্তারের বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হোক। তিনি জীবিত থাকলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাজা হয়ে থাকলে সে সম্পর্কেও পরিবারকে সরকারিভাবে জানানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মির্জাপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল; মক্কা, সৌদি আরব; নগর ছাওয়ালী গ্রাম, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুইটি আক্তার, জহুরা বেগম, ফজলু মিয়া, নতু মিয়া (দালাল), ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, জহিরুল আলম (ইউপিও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৩ (সৌদি যাত্রার বছর), ১৩ অক্টোবর (সর্বশেষ যোগাযোগের তারিখ), ৬ মাস (সৌদি যাওয়ার পর গ্রেপ্তারের সময়কাল), ১ বছর (গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার সময়কাল), ১.৫ লাখ টাকা (দালালকে দেওয়া অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!