📌 অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে মঞ্চস্থ নাটক ‘লেট মি ফ্লাই’ অভিবাসী নারীদের পারিবারিক নির্যাতন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার গল্প তুলে ধরেছে। বাংলাদেশি নাট্য পরিচালক মৌসুমী মার্টিনের প্রযোজিত এই নাটকটি স্থানীয় ও প্রবাসী দর্শকদের মন গড়িয়ে দিয়েছে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ব্যাংকসটাউন আর্টস সেন্টারে মঞ্চস্থ নাটক ‘লেট মি ফ্লাই’ অভিবাসী নারীদের জীবনযাপনের যন্ত্রণা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ভাষায় বাঁধতে সক্ষম হয়েছে। এই নাটকটি মঞ্চের পেছনে আঁকা খাঁচাবন্দী পাখি ও ভাঙা ডানার প্রতীক দিয়ে শুরু হয়েছে, যা নারীদের বন্দি জীবন ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৌসুমী মার্টিন ও জন মার্টিন প্রযোজিত ‘লেট মি ফ্লাই’ নাটকটি সিডনির ব্যাংকসটাউন আর্টস সেন্টারে মঞ্চস্থ হয়েছে, যা অভিবাসী নারীদের পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক যন্ত্রণার গল্প তুলে ধরেছে।
- 📌 নাটকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত ও আফ্রিকা থেকে আসা ১০ জন অভিবাসী নারী অভিনয় করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে আসনান নেহেরিন, ফয়জুন পল্লী, ওলায়িংকা অ্যাশলে ও সাহানা অভিজিৎ।
- 📌 মৌসুমী মার্টিন বলেছেন, ‘অভিবাসী নারীদের না-বলা যন্ত্রণা গলিয়ে ভাষা দিতে চেয়েছি। মঞ্চে যখন তাঁদের কথা সাহসের সঙ্গে প্রকাশ পায়, সে দৃশ্য শিল্পীর জন্য সর্বোচ্চ সাফল্য।’
- 📌 নাটকের মঞ্চসজ্জায় বাংলাদেশি শিল্পী কীরিটি রঞ্জন বিশ্বাস খাঁচাবন্দী পাখির ব্যানার আঁকেছেন, যা নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।
- 📌 লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন ও ক্যান্টারবারি–ব্যাংকসটাউন কাউন্সিল এই নাটকটির আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করেছে।
📰 বিস্তারিত
‘লেট মি ফ্লাই’ নাটকটি অভিবাসী নারীদের জীবনযাপনের যন্ত্রণা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি। এই নাটকটি ইংরেজি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে এবং স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রযোজক ও পরিচালক জন মার্টিন বলেছেন, ‘আমার কাছে নাটক করা মানে প্রার্থনা। পাঁচ মাসের গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই নাটকটি তৈরি হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, নীতিনির্ধারকরা সরাসরি এই মানবিক যন্ত্রণাগুলো উপলব্ধি করতে পারেন।’
মৌসুমী মার্টিন ঢাকার মঞ্চে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। ‘লেট মি ফ্লাই’ নাটকে তিনি সূত্রধর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অভিবাসী নারীদের যন্ত্রণা অনেক সময় মুখে না আসে। এই নাটকে আমরা তাদের মনের পাথর গলিয়ে ভাষা দিতে চেয়েছি। মঞ্চে যখন তাঁদের কথা সাহসের সঙ্গে প্রকাশ পায়, সে দৃশ্য যেকোনো শিল্পীর জন্যই পরম প্রাপ্তি।’
নাটকে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত ও আফ্রিকা থেকে আসা বিভিন্ন দেশের নারী। তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলেও নাটকের কেন্দ্রে রয়েছে পারিবারিক সহিংসতা ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা। নাটকের মঞ্চায়নে গান ও কবিতা যুক্ত করা হয়েছে, যা দর্শকদের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করেছে।
"আমার কাছে নাটক করা মানে প্রার্থনা। টানা পাঁচ মাস বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণা থেকে এ নাটকের কাঠামো তৈরি হয়েছে। মূলধারার সমাজ থেকে অভিবাসী সমাজে পারিবারিক নির্যাতনের সংকটটি একটু ভিন্ন। আমরা চেয়েছিলাম, নীতিনির্ধারকরা সরাসরি এই তীব্র মানবিক যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারেন।"
নাটকের কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন সিডনির আনিসুর রহমান। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল। সিডনিপ্রবাসী নাট্যব্যক্তিত্ব গোলাম মোস্তফা বলেছেন, ‘মৌসুমী মার্টিনের বাচনভঙ্গি আর অভিবাসী নারীদের বাস্তব অভিনয় ভেতরের অনুভূতি নাড়িয়ে দিয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্যাংকসটাউন আর্টস সেন্টার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মৌসুমী মার্টিন, জন মার্টিন, গোলাম মোস্তফা, কীরিটি রঞ্জন বিশ্বাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জন অভিনেত্রী, ৫ মাস প্রস্তুতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!