📌 সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলামের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫) হৃদরোগে মারা যান। পরিবার ঋণে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা সরকারের সক্রিয় ভূমিকা চায়
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের নজরুল ইসলামের পরিবার ভেঙে পড়েছে। তার ফুফু আবেদা বেগম (৬৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শোকের কারণে। একই সঙ্গে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারানোর শোকে নজরুলের বাবা-মা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শুনে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫) মারা যান
- 📌 নজরুলের বাবা-মা ঋণে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, সাত লাখ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে
- 📌 মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে নজরুলের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে পরিবারের প্রশ্ন
- 📌 নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন নজরুল ইসলাম। পরিবারের অভাব ঘোচাতে ২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সৌদি আরবে যাওয়ার সাত-আট মাস পর থেকে পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি জানান, বন্দি রয়েছেন। তবে কারাগারে থাকার সময় তিনি পরিবারকে জানাননি যে, কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।
প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর জানতে পারে পরিবার। গণমাধ্যমের খবর থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন। নজরুলের মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার ফুফু আবেদা বেগম (৬৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একদিকে ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু — এই দুই শোকে ভেঙে পড়েছেন নজরুলের বাবা-মা।
নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। এখন কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, তাও জানি না। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’ তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। কারাগারে থাকার সময় ছেলে তাকে জানিয়েছিল, কনস্যুলেটের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
বিরামপুর গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে পরিবারকে সহায়তা করা হবে।
"আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। এখন কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, তাও জানি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিরামপুর গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সৌদি আরব (মক্কা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম, আবদুল বাছির, আবেদা বেগম, মো. আবু সাঈদ (জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ (আবেদা বেগমের বয়স), ৭ লাখ টাকা (ঋণ), ১৪ অক্টোবর (মৃত্যুদণ্ড কার্যকর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!