📌 সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সৌদি সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি জটিল হলেও সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধ শেষে পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে
সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, যেসব শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তাদের জন্য সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের কারণে আলোচনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, সৌদি আরবের বর্তমান সংকটের কারণে আলোচনা কঠিন হলেও সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
- 📌 সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।
- 📌 বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশগামী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত, এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি সৌদি আরবে।
- 📌 যুদ্ধ শেষে সৌদি আরবে পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
- 📌 বিদেশে নিহত বাংলাদেশি কর্মীদের পরিবারকে সরকার প্রায় ১৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করে।
- 📌 মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মস্থলে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত আন্তরিক থাকে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। যুদ্ধের পর থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করে আসছে, বিশেষ করে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি বলেন, “এই দুর্যোগের সময়ে তাদের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোরও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, সরকার নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা দিচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী কিছু কোম্পানি কর্মীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে।
বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশগামী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সৌদি আরবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা কমলেও তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যুদ্ধ শেষ হলে পুনর্গঠন কাজে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার কাজও চলছে। দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য পুনরেকত্রীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
"সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। এই দুর্যোগের সময়ে তাদের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোরও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নুরুল হক (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ শতাংশ (মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক), ১৩ লাখ টাকা (নিহত কর্মীদের পরিবারকে সহায়তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!