📌 সৌদি আরবে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের রায়ের অনুলিপি চেয়ে সরকার চিঠি পাঠিয়েছে। এছাড়াও, সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে
সৌদি আরবে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী আছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের রায়ের অনুলিপি চেয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। এছাড়াও, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আজ ঢাকায় পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী রয়েছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের তথ্য
- 📌 মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের রায়ের অনুলিপি চেয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে সৌদি সরকারকে
- 📌 সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে
- 📌 গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে
- 📌 সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তা ও ভিসা মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী রয়েছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের তথ্য। তিনি বলেন, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের রায়ের অনুলিপি চেয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। এই দুজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। আজ শুক্রবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ এসেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেই মরদেহ নিতে যান এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ সকাল আটটার পর ঢাকায় পৌঁছায়। পরে মরদেহ ও সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা শাহেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীকে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরকারের কাছে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। এই অনুলিপি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা পাঠায়। সেখানে এই দুজনের নাম আছে কিনা তা সরকার খতিয়ে দেখছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশের বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের উদ্দেশ্য নয়। তবে বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা বাংলাদেশের জন্য জরুরি। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একা এসব বিষয় সমাধান করে না। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইনগত বিষয়গুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একসঙ্গে কাজ করে।
শাহেদ আহম্মেদ ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হন। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার সময় সেখানে অবস্থান করছিলেন শাহেদ। ওই হামলায় শাহেদসহ দুজন বাংলাদেশি নিহত হন।
"সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ আজ দেশে এসেছে।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় না ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে এভাবে প্রাণ হারাতে হোক। তিনি দোয়া করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং কোনো দেশের নাগরিকই যেন এমন নৃশংস হামলার শিকার না হন। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং ভিসা নবায়নের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (রিয়াদ, জেদ্দা), ঢাকা (হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. শাহেদ আহম্মেদ, কহিনুর আক্তার কাকলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাড়ে সাত হাজার (বন্দী), ১১ জন (নিহত), ৪০ লাখ (বাংলাদেশি কর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!