📌 প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, বৈধ রেমিট্যান্সে ৩% প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন, চিকিৎসা সুবিধা ও জমিজমা সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রবাসী কার্ডধারীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেছেন, বর্তমানে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসীরা পান ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা। এছাড়াও প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে আর্থিক লেনদেন, চিকিৎসা সুবিধা ও জমিজমা সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রেমিট্যান্সে ৩% প্রণোদনা**: বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রবাসী কার্ডধারীদের ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই সুবিধা ২.৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ।
- 📌 **প্রবাসী কার্ডের সুবিধা**: কার্ডের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে আর্থিক লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার চিকিৎসা ও ছাড় পাওয়ার সুবিধা দেওয়া হবে।
- 📌 **রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ**: দেশে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি টিকে থাকতে পারে, যাদের কাজের মান ও দক্ষতা বিবেচনায় গ্রেডিং করা হবে।
- 📌 **প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান**: পাসপোর্ট দালালি, বিদেশে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও জমিজমা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন**: বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় ‘রেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সহায়তা ও পুনর্বাসন করা হবে।
- 📌 **নারী প্রবাসী সুরক্ষা**: নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও প্রবাসীদের সেবা সহজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে চলছে। কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে ও বিদেশে সহজে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও ছাড় পাওয়ার সুবিধাও দেওয়া হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি টিকে থাকতে পারে, যাদের কাজের মান ও দক্ষতা বিবেচনায় গ্রেডিং করা হবে। এতে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করা সহজ হবে। তিনি বলেন, এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাসপোর্ট করতে গিয়ে দালালের দৌরাত্ম্য, বিদেশে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়া এবং বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রবাসীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জমিজমা–সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় চলমান ‘রেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি ও কাজের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের চাহিদা ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ করা জরুরি বলে প্রতিমন্ত্রী বলেন।
"দেশে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি টিকে থাকতে পারে। এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নুরুল হক (প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ শতাংশ (প্রণোদনা), ২.৫ শতাংশ (বর্তমান প্রণোদনা), ৩০০-৫০০টি (রিক্রুটিং এজেন্সি), ১১টি (প্রবাসীদের সমস্যা খাত), ১১০টি (প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!