📌 মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। নোয়াখালী থেকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং লিবিয়ায় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়
মানবপাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে সিআইডি দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। নোয়াখালীর একজন যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীকে ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং লিবিয়ায় আটক অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানবপাচার চক্রের সদস্য দু’জনকে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে — মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।
- 📌 নোয়াখালীর সেনবাগের যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
- 📌 ভুক্তভোগীকে ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং লিবিয়ায় ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
- 📌 লিবিয়ায় ভুক্তভোগীকে একটি ‘গেম রুমে’ আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।
- 📌 ভুক্তভোগী নিজেই মামলা করে এবং সিআইডি তদন্তের পর দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
📰 বিস্তারিত
সিআইডির মিডিয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রের দু’জন সদস্যকে আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান চালিয়ে রাজধানীর আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দু’জন হলেন মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।
নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। চক্রের সদস্যরা ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে। ভুক্তভোগী ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন এবং ৫ এপ্রিল পাসপোর্ট জমা দেন।
সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগীকে ভারতের নয়াদিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো পাঠানো হয়। সেখানে ১৬ দিন রাখার পর ধাপে ধাপে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে কায়রোতে পাঠানো হয়। কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের সদস্য তাকে একটি বাসায় নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রাখেন। পরে ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। লিবিয়া পুলিশ গত ৭ জুলাই ভুক্তভোগীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
"মানবপাচার চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। সিআইডি তদন্তের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আশকোনা), নোয়াখালী (সেনবাগ), লিবিয়া, কায়রো, দিল্লি, কলম্বো, শারজাহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২), মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪), ভুক্তভোগী যুবক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, ৬ লাখ টাকা, ৩২ বছর, ৫৪ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!