📌 ফরিদপুরের হাবি মাতুব্বর লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করলে তদন্তে মুক্তিপণ আদায়কারী বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরিবার অভিযোগ করে, সুপারিশের মাধ্যমে বকুলকে প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে
ফরিদপুরের হাবি মাতুব্বর (৪৫) লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করলে তদন্ত প্রতিবেদনে মুক্তিপণ আদায়কারী বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরিবার অভিযোগ করে, সুপারিশের মাধ্যমে বকুলকে প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তাছলিমা বেগম দাবি করেন, বিচারপ্রক্রিয়ার শুরুতেই তাঁরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরের হাবি মাতুব্বর (৪৫) লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করলে তদন্ত প্রতিবেদনে মুক্তিপণ আদায়কারী বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
- 📌 পরিবার দাবি করে, বকুল মাতুব্বরের ছেলে পারভেজের চাচাশ্বশুর যুগ্ম সচিবের সুপারিশে বকুলকে প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 নিহতের স্ত্রী তাছলিমা বেগমের অভিযোগ, লিবিয়ায় নির্যাতনের দৃশ্য বকুল মাতুব্বরকে দেখিয়ে পাঠানো হয়েছিল।
- 📌 হাবির মৃত্যুর পর অন্তত ১১ জন বন্দি আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। তাদের দাবি, হাবিকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল।
- 📌 মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনে মুরাদ বেপারী, আসলাম মাতুব্বর, শাহিন মাতুব্বর, মনির ফকির ও তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও চোরাচালানের অভিযোগ সত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালপাশা গ্রামের হাবি মাতুব্বর (৪৫) লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের দাবি, পাশের গোয়ালপাড়া গ্রামের আসলাম মাতুব্বর (৪০) হাবিকে চক্রের প্রধান মুরাদ বেপারী (৪০) এবং বকুল মাতুব্বরসহ ছয়জনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ইতালি পাঠানোর জন্য ২০ লাখ টাকায় চুক্তি হয় বলে দাবি পরিবারের। ধারদেনা ও জমি বন্ধক রেখে প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা চক্রটির হাতে দেন হাবি।
২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন হাবি। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ২ সেপ্টেম্বর বাকি ১০ লাখ টাকা বকুল মাতুব্বরসহ তিনজনের হাতে দেওয়া হয়। নির্যাতনের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে বকুল মাতুব্বরের কাছে পাঠানো হয়। পরে বকুল তাঁর বাড়িতে গিয়ে ওই দৃশ্য দেখান এবং হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।
তাছলিমা বেগমের অভিযোগ, মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন থামেনি। এক মাস পর বকুলের মাধ্যমে মুরাদ বেপারী আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বাড়তে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অন্য বন্দিদের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর খবর পান তিনি। হাবির মৃত্যুর পর সেখান থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ১১ জন বন্দি আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। তাদের দাবি, হাবিকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল।
"মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন থামেনি। এক মাস পর বকুলের মাধ্যমে মুরাদ বেপারী আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বাড়তে থাকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অন্য বন্দিদের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাই।"
মামলায় গত ২৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মুরাদ বেপারী, আসলাম মাতুব্বর, শাহিন মাতুব্বর, মনির ফকির ও তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে হাবি মাতুব্বরকে ইতালিতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে মানবপাচার ও চোরাচালানের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে প্রতিবেদনে বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা, জাঙ্গালপাশা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাবি মাতুব্বর (৪৫), তাছলিমা বেগম, বকুল মাতুব্বর, মুরাদ বেপারী, আসলাম মাতুব্বর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ টাকা (মোট মুক্তিপণ), ১০ লাখ টাকা (দুইটি দফায়), ৪৫ বছর (হাবির বয়স), ২০ (বড় ছেলের বয়স), ১৫ (ছোট ছেলের বয়স), ৫ (মেয়ের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!