📌 রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের পাচার করে ইউক্রেন যুদ্ধে জোর করে পাঠানোর অভিযোগে এসআরবি দুজন মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশিকে পাচার করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগে দায়ী। এসআরবি জানায়, এই চক্রের ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন দেশে ফিরেছে
রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের পাচার করে ইউক্রেন যুদ্ধে জোর করে পাঠানোর অভিযোগে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) দুজন মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এসআরবি জানায়, এই দুজন পাচারকারী চক্রের সদস্যরা মোট ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশিকে পাচার করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। এ ঘটনার শিকারদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২ মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার**: ফরিদপুরের নগরকান্দা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের লেন্টু (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 **৩০ জন বাংলাদেশি পাচার**: উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করা হয়।
- 📌 **ইউক্রেন যুদ্ধে জোর করে পাঠানো**: রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে ভর্তি করে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়।
- 📌 **২০ জনের মৃত্যু, ২ জন দেশে ফিরে আসে**: যুদ্ধে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন আহত অবস্থায় দেশে ফিরেছেন।
- 📌 **ক্ষতিপূরণ দাবি ও হুমকি**: আহত বাংলাদেশি রাজন হোসেন (২১) ক্ষতিপূরণ দাবি করলে পাচারকারী মিজানুর রহমান তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ ও মারধর করার হুমকি দেন।
📰 বিস্তারিত
এসআরবি-১০ অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফরিদপুরের নগরকান্দা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে এই দুজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমান ও আবু তাহের লেন্টু নির্মাণকাজের কথা বলে রাজন হোসেন (২১) নামের এক যুবককে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।
এসআরবি জানায়, যুদ্ধে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এতে তিনি দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন। চার দিন কষ্ট করার পর হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে আহত অবস্থায় পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন রাজন। দেশে ফেরার পর ক্ষতিপূরণ দাবি করলে মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় রাজনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়।
মিজানুর রহমান ও আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে। ১৩ অক্টোবর ভোরে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল। একই দিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬।
"চক্রটি উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করেছে। পরে তাঁদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন।"
— অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান, এসআরবি-১০
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুরের নগরকান্দা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, রাশিয়া, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজানুর রহমান (৫৫), আবু তাহের লেন্টু (৫০), রাজন হোসেন (২১), অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ জন গ্রেপ্তার, ৩০ জন পাচার, ২০ জন মৃত্যু, ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৭ মে (রাশিয়ায় পৌঁছান), ২৩ আগস্ট (দেশে ফিরে আসা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!