📌 বিশ্বের উন্নত শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা মাত্র ৫৫-৬০ শতাংশ বলে স্বীকার করেছে সরকার। ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ১২ লাখের বেশি সনদ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও প্রশিক্ষণ-নিয়োগের সমন্বয় এখনও চ্যালেঞ্জিং
বিশ্বের উন্নত শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা ক্রমশ বাড়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সরকারের নিজস্ব স্বীকারোক্তিতে, বর্তমান কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ, এক কোটি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য পূরণে বর্তমান প্রশিক্ষণ অবকাঠামোকে প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ বছরে এক কোটি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, কিন্তু বর্তমান প্রশিক্ষণ সক্ষমতা মাত্র ৫৫-৬০ শতাংশ।
- 📌 ১১০টি সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (১০৪টি টিটিসি + ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি) রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর ১২ লাখের বেশি সনদ দেওয়া হয়।
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোয়েসেল সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ১৯৭ জন কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে, যার মধ্যে জর্ডানে ১৪ হাজার ৫৪৩ জন।
- 📌 জাপানে ‘জাপানি সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং টিটিসিগুলো প্রশিক্ষণকে নিয়মিত করছে, কিন্তু বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও প্রশিক্ষণ-নিয়োগের সমন্বয় এখনও চ্যালেঞ্জিং।
- 📌 প্রশিক্ষণ সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ প্রতিবছর রেকর্ডসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠাচ্ছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই হাতে-কলমে দক্ষতা ছাড়া। জাপান, ইউরোপসহ বিশ্বের উন্নত শ্রমবাজারে এখন অদক্ষ কর্মীর সুযোগ কমে যাচ্ছে এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সরকারের স্বীকারোক্তিতে, বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সক্ষমতা মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য পূরণে বর্তমান প্রশিক্ষণ অবকাঠামোকে প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ও সক্ষমতার ঘাটতি মোকাবেলায় বর্তমানে দেশে ১১০টি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৫৫টি বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে এবং প্রতিবছর ১২ লাখের বেশি মানুষকে কারিগরি সনদ দেওয়া হচ্ছে। তবে পাঁচ বছরের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে গড়ে প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ কর্মীকে বিদেশ পাঠাতে হবে।
২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য পূরণে বর্তমান সক্ষমতা মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ।’ তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘দেশের বাইরে অদক্ষ শ্রমিকের বাজার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। দক্ষ জনবল ছাড়া বর্তমানে বিদেশের শ্রমবাজারে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, জাপানে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কাজগুলো সমন্বয়ের জন্য ‘জাপানি সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং টিটিসিগুলো প্রশিক্ষণকে নিয়মিত করছে।
"দেশের বাইরে অদক্ষ শ্রমিকের বাজার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। দক্ষ জনবল ছাড়া বর্তমানে বিদেশের শ্রমবাজারে কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব।"
গত জুলাই মাসে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংসদে জানান, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর সম্ভাব্য বৈশ্বিক চাহিদার পূর্বাভাস সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বিদেশি নিয়োগদাতাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদার সঙ্গে দেশীয় প্রশিক্ষণ কারিকুলামের পুরোপুরি সমন্বয় হয়নি। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ২ হাজার ৩০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে সাত লাখের বেশি কর্মী সনদ পেলেও বৈশ্বিক বাজারে এই সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা সমাধানে দেশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পৃথক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোকে একটি অভিন্ন সরকারি সনদের আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ জরুরি ভিত্তিতে শুরু করা প্রয়োজন।
দক্ষ কর্মী তৈরি করে নিরাপদভাবে বিদেশে পাঠানোর কাজে বড় ভূমিকা রাখছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ১৯৭ জন কর্মী বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৫৪৩ জন, ব্রুনেইয়ে ১ হাজার ৮১২ জন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০৪ জন কর্মী গেছেন। এর পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ (OEP) চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিদেশি নিয়োগদাতা, প্রার্থী, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে ভিসা যাচাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ; জাপান, জর্ডান, ব্রুনেই, দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুল হক চৌধুরী (অতিরিক্ত সচিব), মোখলেছুর রহমান আকন্দ (যুগ্ম সচিব), আরিফুল হক চৌধুরী (মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি (লক্ষ্য কর্মী), ১১০টি (প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান), ১২ লাখ (প্রতিবছর সনদ), ২০ লাখ (প্রতিবছর প্রয়োজন), ৫৫-৬০% (বর্তমান সক্ষমতা), ১৯ হাজার ১৯৭ (বোয়েসেল পাঠানো কর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!