📌 বাংলাদেশ এক কোটি প্রবাসী কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে, কিন্তু বর্তমান সক্ষমতা মাত্র ৫৫-৬০ শতাংশ। দক্ষতা উন্নয়ন, সনদ স্বীকৃতি ও প্রশিক্ষণ-কর্মসংস্থান মিলনের অসামঞ্জস্য এ লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সমাধানের পথ খুঁজছেন।
বাংলাদেশের এক কোটি প্রবাসী কর্মী পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যে এগোচ্ছে, কিন্তু বর্তমান কাঠামোগত সক্ষমতা মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। এই ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশের ঘাটতি পূরণ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব বলে মনে করছেন সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা। সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল কনসালটেশন অন স্কিলস, মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি’ সভায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৫-৬০ শতাংশ সক্ষমতা থাকলেও বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে ৪০-৪৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।
- 📌 ২২টি মন্ত্রণালয় ও ৩৬টি সংস্থার সাথে মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা সমন্বয় করছেন, যা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় বাধা।
- 📌 ২০২৩ সালে ৬ লাখ ৯০ হাজার কারিগরি শিক্ষার্থী ও ১৮ লাখ প্রশিক্ষণার্থী পেলেও ৪৫-৪৭ শতাংশই উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছেন না।
- 📌 ৭০ শতাংশ প্রবাসী কর্মী এখনও নিম্নদক্ষতার শ্রেণীতে রয়েছে, ফলে বিদেশে নিম্ন মজুরি ও শোষণের শিকার হচ্ছেন।
- 📌 ইতালি ২০ হাজার কর্মভিসা দিলেও অনিয়মিত পথে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বাংলাদেশী কর্মীরা।
📰 বিস্তারিত
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এই সভায় সরকারি কর্মকর্তা, দক্ষতা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশী দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং নেদারল্যান্ডসের র্যাডবাউড ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে পরিচালিত ‘গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি ফর স্কিলস মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত সভায় উঠে আসা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান ব্যবস্থায় এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো সনদের স্বীকৃতি। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) সদস্য মো: রাবিউল ইসলাম জানান, প্রায় সাত লাখ প্রশিক্ষণার্থী এনএসডিএ সনদ পেলেও দেশের বাজারে এসব সনদের স্বীকৃতি সন্তোষজনক নয়। তিনি প্রশ্ন তুলেন, দেশের বাজারে সনদের স্বীকৃতি যথেষ্ট না থাকলে, বিদেশের শ্রমবাজারে কীভাবে সেগুলো স্বীকৃতি পাবে?
অভিবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ধারায় এই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের সক্ষমতা মাত্র ৫৫-৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর না দিয়ে, কোন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেই অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।
"শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর না দিয়ে, কোন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেই অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।"
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান উল্লেখ করেন, বহু বছর ধরে বিনিয়োগের পরও বিদেশগামী কর্মীদের ৭০ শতাংশের বেশি এখনও নিম্নদক্ষতার শ্রেণীতে রয়েছে। ফলে কর্মীরা বিদেশে গিয়েও নিম্ন মজুরি ও শোষণের শিকার হচ্ছেন। ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো: সাকাওয়াত আলী বলেন, অটোমোবাইল টেকনিশিয়ানের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও যদি নির্মাণকাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানো হয়, তবে প্রশিক্ষণের সংখ্যা বাড়িয়েও কাক্সিক্ষত ফল আসবে না।
ইতালির দূতাবাসের মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ জিউসেপ্পে দি জিওভান্নি জানান, ইতালি বাংলাদেশীদের ২০ হাজার কর্মভিসা দিলেও সমপরিমাণ মানুষ লিবিয়া হয়ে অনিয়মিত পথে দেশটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বৈধ ভিসার সরকারি ফি মাত্র ৬৫ ইউরো হলেও বাংলাদেশী কর্মীদের দালালদের পেছনে অতিরিক্ত অর্থায়ন করতে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম সচিব লরা কার্তানিয়া ইয়াখ জানান, ইইউ প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দিলেও প্রশিক্ষণ এখনও কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো: সাইফুল হক চৌধুরী, মো: রাবিউল ইসলাম, রাহনুমা সালাম খান, জিউসেপ্পে দি জিওভান্নি, লরা কার্তানিয়া ইয়াখ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫-৬০%, ৪০-৪৫%, ২২টি মন্ত্রণালয়, ৩৬টি সংস্থা, ১৮ জন কর্মকর্তা, ৬ লাখ ৯০ হাজার, ১৮ লাখ, ৪৫-৪৭%, ৭০%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!