📌 অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ছুটির মৌসুমে দেশে যাওয়ার আতঙ্ক কমেছে। টিকাটি শিশুদেরও নিতে পারবেন এবং অতীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তিদের জন্যেও উপলব্ধ।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ সহজলভ্য হয়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। বিদেশভ্রমণে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ টিকাটি সাধারণ জনগণের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এখন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীরা সরাসরি টিকা নিতে পারবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ সহজলভ্য হয়ে পড়েছে, যা ৪ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য উপলব্ধ
- 📌 বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ছুটির মৌসুমে বাংলাদেশে যাওয়ার আতঙ্ক কমেছে, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে
- 📌 টিকাটি অতীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তিদেরও নিতে পারবেন, যা ‘ডেংভ্যাক্সিয়া’ থেকে আলাদা
- 📌 শূন্য দশমিক পাঁচ মিলিলিটার দুটি ডোজে টিকা দেওয়া হয়, প্রথম ডোজের অন্তত ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়
- 📌 অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৪ সালে ২ হাজার ৩৮১ জন এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৮৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়, সবাই বিদেশভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমিত
📰 বিস্তারিত
অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গুর টিকা পাওয়ার খবর বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রতিবছর ছুটির মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে সফরকারী প্রবাসীদের মধ্যে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আতঙ্ক ছিল। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার কারণে তাদের মন সবসময় ভয়ে থাকে। সিডনির লাকেম্বার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইরফান খান বলেন, ‘আমি সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে যেতে চাই। কিন্তু বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ অবস্থা দেখে মন ভয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় এই টিকা পাওয়া গেলে বড় স্বস্তি হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাচ্চাদের আগেই টিকা দিয়ে নিতে চাই।’
অন্য এক প্রবাসী সৈয়দ আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন সাধারণ জ্বর থেকে বেশি মারাত্মক। অস্ট্রেলিয়ায় বসে দেশে পরিচিতজনদের মৃত্যুর খবর শুনলে আমি আঁতকে উঠি। দেশে যাওয়ার আগেই টিকা পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ।’ অস্ট্রেলিয়ার টিকাদান–সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি জানিয়েছে, চার বছর বা তার বেশি বয়সীদের কিউডেঙ্গা টিকা নিতে পারবেন। বিশেষ করে যারা অতীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাদের জন্য টিকা নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. পিটার মার্কি বলেছেন, ডেঙ্গুর চারটি পৃথক ধরন রয়েছে। কোনো ব্যক্তি একবার কোনো এক ধরনে আক্রান্ত হয়ে থাকলে, আর দ্বিতীয়বার ভিন্ন ধরনে সংক্রমিত হলে তা মারাত্মক হতে পারে। তাই ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাস বা একাধিকবার ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এই টিকা নেওয়া জরুরি। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রায় সবাই বিদেশভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে ফেরেন।
"কোনো ব্যক্তি একবার কোনো এক ধরনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে, আর দ্বিতীয়বার ভিন্ন ধরনে সংক্রমিত হলে তা মারাত্মক হতে পারে। তাই টিকা নেওয়া জরুরি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (সিডনি), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ ইরফান খান, সৈয়দ আশরাফ আহমেদ, ডা. পিটার মার্কি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর (টিকার জন্য ন্যূনতম বয়স), ০.৫ মিলিলিটার (প্রতি ডোজের পরিমাণ), ১২ সপ্তাহ (দ্বিতীয় ডোজের অন্তরাল), ১০ কোটি (বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু রোগী), ২ হাজার ৩৮১ জন (২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গু রোগী), ১ হাজার ৮৬৩ জন (২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ডেঙ্গু রোগী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!