📌 চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শহিদুল্লাহ ২০১৩ সাল থেকে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার দাবি করে তিনি নির্দোষ। ১৪ বছরের কারাবাসে পরিবার মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা চায়
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের মো. শহিদুল্লাহ ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন। সৌদি নাগরিক জাকী আল আশুরকে হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। তবে পরিবারের দাবি, শহিদুল্লাহ নির্দোষ এবং তাঁকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা চেয়ে মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৪ বছর কারাবাস**: চাঁদপুরের শহিদুল্লাহ ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি, মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার দাবি করে তিনি নির্দোষ
- 📌 **পরিবারের কষ্ট**: ৭৫ বছর বয়সী মা খুশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ছেলে জিহাদ হোসেন (২২) ও মেয়ে ফিয়া আক্তার (১৭) — সবাই স্বামী/বাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে সংসার চালাচ্ছেন
- 📌 **স্বামীর আহ্বান**: পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স মাত্র ৭ বছর। বাধ্য হয়ে আমার ছেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে কাজে নামে’
- 📌 **মা ও ছেলের আবেদন**: মা খুশিদা বেগম বলেন, ‘মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখতে চাই’; জিহাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক’
- 📌 **কূটনৈতিক চাপ**: পরিবার ও এলাকাবাসীরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে মানবিক বিবেচনা ও আইনি সহায়তা চায়
- 📌 **সৌদি দাবি**: বাংলাদেশ দূতাবাসের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির চিঠিতে শহিদুল্লাহকে জাকী আল আশুর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে যান মো. শহিদুল্লাহ। কর্মজীবন শুরু করার কয়েক বছর পর তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। সৌদি নাগরিক জাকী আল আশুরকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাঁর পরিবার অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিচার শেষে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন।
শহিদুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তিনি নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্র করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শহিদুল্লাহ সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালে একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। পরিবার ও এলাকাবাসীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা চেয়ে মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন।
শহিদুল্লাহর স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স মাত্র ৭ বছর। তাঁর গ্রেপ্তারের পর থেকেই সংসারে অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে অল্প বয়সেই আমার ছেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে কাজে নামে। আমি আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই। তাঁকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
"আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স মাত্র ৭ বছর। তাঁর গ্রেপ্তারের পর থেকেই সংসারে অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে অল্প বয়সেই আমার ছেলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে কাজে নামে। আমি আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই। তাঁকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।"
শহিদুল্লাহর মা খুশিদা বেগম বলেন, ‘ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে আমার চোখ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে একবার ছেলেকে দেখতে চাই। আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।’
শহিদুল্লাহর ছেলে জিহাদ হোসেন (২২) বলেন, ‘১৪ বছর ধরে বাবা কারাগারে। মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন। ছোট বয়সেই আমাকে কাজে নামতে হয়েছে। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, আগের মতো কাজও করতে পারি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা, তফিরা গ্রাম (বাংলাদেশ); সৌদি আরবের দাম্মাম কারাগার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শহিদুল্লাহ, পেয়ারা বেগম, খুশিদা বেগম, জিহাদ হোসেন (২২), ফিয়া আক্তার (১৭), জাকী আল আশুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর (কারাবাস), ২০১৩ (গ্রেপ্তার), ২৪ জুলাই (গ্রেপ্তার তারিখ), ২৪ জানুয়ারি (দূতাবাসের চিঠি), ৭৫ বছর (মা), ২২ বছর (জিহাদ), ১৭ বছর (ফিয়া), ৭ বছর (জিহাদের বয়স গ্রেপ্তারের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!