📌 যশোর সদরের কৈখালী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের সময় এক নারীর অস্বাভাবিক আচরণের পর গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে চারদিন পর দ্বিতীয় দফায় পূজা ও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়
যশোর সদরের কৈখালী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার বিসর্জন অনুষ্ঠানটি অস্বাভাবিকভাবে শেষ হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতিতে এক নারীর অস্বাভাবিক আচরণের পর গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে চারদিন পর দ্বিতীয় দফায় পূজা ও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজয়া দশমীর দিন (২১ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের সময় মন্দিরে এক নারী জ্ঞান হারিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে দাবি করেন পূজায় ত্রুটি ছিল
- 📌 দাবি করা হয় পূজায় অংশ নেওয়া অশৌচ থাকা লোকজন ও পুরোহিত মাছ-মাংস খেয়েছেন, ফলে মায়ের পূজা সঠিকভাবে হয়নি
- 📌 গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে চারদিন পর (২৪ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় পূজা ও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়
- 📌 মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গণেশ কুমার জানান, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হলেও এবারের ঘটনা ব্যতিক্রমী
- 📌 পুরোহিত উজ্জল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, শাস্ত্রে দ্বিতীয় দফায় পূজার নিয়ম না থাকলেও এলাকার মানুষের মঙ্গল কামনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়
📰 বিস্তারিত
দেশের সব মণ্ডপে দুর্গাপূজার বিসর্জন শেষ হলেও যশোর সদরের কৈখালী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক তখনই মন্দিরে উপস্থিত সবিতা রানি ঘোষ নামে এক নারী জ্ঞান হারিয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরে আসার পর তিনি দাবি করেন, পূজায় অংশ নেওয়া অশৌচ থাকা লোকজন ও পুরোহিত মাছ-মাংস খেয়েছেন। ফলে মায়ের পূজা সঠিকভাবে হয়নি। তিনি দাবি করেন, দৈববাণী অমান্য করলে গ্রামে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।
মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত শত শত লোক এই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে যান। এরপর গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে প্রতিমা বিসর্জন স্থগিত করে চারদিন পর (২৪ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় পূজা ও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গণেশ কুমার বলেন, ‘গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের মত এই মন্দিরেও দুর্গাপূজা হয়েছিল। বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের সময় সবিতা রানি ঘোষ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, পূজায় ত্রুটি ছিল এবং পুনরায় পূজা না করলে গ্রামে দুর্ঘটনা ঘটবে।’
গণেশ কুমার আরও জানান, ঘটনার আগের রাতে এলাকার কিছু মানুষ নড়াইলে পূজা দেখতে যাচ্ছিল, তখন দুর্ঘটনায় পতিত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়। পরে জানা যায়, অশৌচ থাকা ব্যক্তিরা পূজায় অংশ নিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর গ্রামবাসীরা সিদ্ধান্ত নেন পুনরায় পূজা করার।
মন্দিরের সভাপতি মিলন কুমার রায় বলেন, ‘১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হলেও এবারের ঘটনা ছিল ব্যতিক্রমী। খরচ বেশি হলেও সবার মঙ্গলের জন্য ফের পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ছিল। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে দেবী দূর্গাকে নতুন করে পূজা করা হয়েছে।’
"আমি বিজয়া দশমীর দিন পূজা দেখতে এসেছিলাম। তারপর কি হয়েছিলো আমি জানি না। আমি অচেতন হয়ে পড়ে যাই। পরে শুনি আমার শরীরে নাকি দেবী মা ভর করেছিলেন।"
পুরোহিত উজ্জল কুমার চ্যাটার্জী বলেন, ‘শাস্ত্রে দ্বিতীয় দফায় দুর্গাপূজার নিয়ম না থাকলেও এলাকার মানুষের মঙ্গল কামনায় ঘট পেতে ফের পূজার আয়োজন করা হয়। দেবীর তুষ্টি আর গ্রামের সার্বিক কল্যাণের আশায় শনিবার বিকেলে ধর্মীয় আচার মেনে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কৈখালী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, যশোর সদর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সবিতা রানি ঘোষ, গণেশ কুমার, মিলন কুমার রায়, উজ্জল কুমার চ্যাটার্জী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ বার পূজা, ৪ দিন পর বিসর্জন, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজা আয়োজন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!