📌 'মায়া রাইড' উদ্যোগে ঢাকার নারী চালক ও যাত্রীরা নিরাপদ যাতায়াতের নতুন পথ খুলেছেন। নারী চালকদের 'মায়াবী' বলা হয় এবং এখন পর্যন্ত ৪০০টির বেশি রাইড সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু চাহিদার ৩০% পূরণ হয় না
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় নারী চালক ও যাত্রী দুজনেই একসাথে স্কুটারে বসেই যাতায়াত করছেন। এই উদ্যোগের নাম 'মায়া রাইড'। এই সেবায় নারী চালকদের 'মায়াবী' বলা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 'মায়া রাইড' উদ্যোগে নারী চালকদের 'মায়াবী' বলা হয়, যারা মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও কার-শেয়ারিং সেবা দেন।
- 📌 গত জুলাই থেকে একটি 'মায়াবী' চালক ৩৮টি রাইড দিয়েছেন, তবে দিনে ৩টি থেকে মেয়ের পরীক্ষা বা সংসারের ব্যস্ততায় কয়েক সপ্তাহ মোটরসাইকেল নিয়ে বেরও হতে পারেন না।
- 📌 'মায়া রাইড' উদ্যোগটি শুরু করেছেন ফাহাদ চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। তারা 'উইমেন–ফার্স্ট রাইড সার্ভিস' স্লোগান নিয়ে এ উদ্যোগ শুরু করেছেন।
- 📌 এখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি রাইডের অনুরোধ এসেছে, কিন্তু চালকসংকটের কারণে মাত্র ৪০০টির বেশি রাইড সম্পন্ন হয়েছে।
- 📌 গুলশান ও বনানীর অফিস এলাকায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে। সকালে অফিস শুরুর সময় চাপ বেশি থাকে।
- 📌 চালকসংকটের কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩০%) অনুরোধ পূরণ করা যায় না।
📰 বিস্তারিত
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যানজটের মধ্যে একটি স্কুটারে দুজন নারী যাতায়াত করছেন। চালক ও যাত্রী দুজনেই নারী। এই স্কুটারের চালক 'মায়া রাইড' উদ্যোগের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফাহাদ চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস এই উদ্যোগের উদ্ভাবক। তারা দেখেছেন, অনেক নারী রাইড শেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, কিন্তু অপরিচিত পুরুষ চালকের পেছনে বসে দীর্ঘ পথ যেতে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই তারা 'মায়া রাইড' উদ্যোগ শুরু করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী চালকদের 'মায়াবী' বলা হয়।
এখন পর্যন্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৪০০টির বেশি রাইড সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু ৬০০টির বেশি অনুরোধ এসেছে। চালকসংকটের কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অনুরোধ পূরণ করা যায় না। সাথী নামের একজন 'মায়াবী' বলেছেন, তিনি প্রথমে ভয় পেয়েছিলেন, কিন্তু রাইড শেষে যাত্রী তাঁকে বলেছিলেন, 'আপু, অনেকক্ষণ ধরে কোনো রাইডার পাচ্ছিলাম না, আপনি আসায় খুব উপকার হলো।'
মায়ার একজন নিয়মিত যাত্রী আনিকা সালসাবিল বলেছেন, নারী চালক থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্বস্তি। পুরো পথ নিশ্চিন্তে থাকা যায়। তিনি দক্ষিণ বনশ্রী থেকে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে যাতায়াত করেন। আগে অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিতেন, কিন্তু এখন মায়ার সেবা নেওয়া শুরু করেছেন।
"অপরিচিত কোনো পুরুষের সঙ্গে রাইড শেয়ার করতে না চাইলেও অনেক নারীর বিকল্প থাকে না। সেই বিকল্পটা তৈরি করার তাগিদ থেকেই মায়ায় যোগ দিই।"
সাথী বলেন, 'একজন নারীর জন্য পরিবারের এই সমর্থন অনেক বড় শক্তি।' তিনি স্বামীর পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাহাদ চৌধুরী, জান্নাতুল ফেরদৌস, সাথী, আনিকা সালসাবিল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮টি রাইড, ১০ জন নিয়মিত যাত্রী, ৬০০টি অনুরোধ, ৪০০টি সম্পন্ন রাইড, ৩০% অনুরোধ পূরণ করা যায় না
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!