📌 কাজ পিছিয়ে দেওয়া মানসিক চাপ ও ভয়ের প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতিবাচক আবেগ ও অতীত ব্যর্থতার প্রভাবেই এমন ঘটে। নিজেকে সহানুভূতিশীল করে ছোট ধাপে কাজ ভাগ করে নেওয়া উচিত
ল্যাপটপের মতোই মস্তিষ্কও একাধিক কাজ জমিয়ে রাখলে ধীরগতির হয়ে পড়ে। সমাজে একে আলসেমি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত ভয়, মানসিক চাপ ও নেতিবাচক অনুভূতি এড়ানোর এক জটিল প্রক্রিয়া।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভয়, মানসিক চাপ ও নেতিবাচক আবেগকে
- 📌 যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফুশিয়া সিরোইস বলেন, কাজের সঙ্গে যুক্ত নেতিবাচক আবেগই মূল প্রতিবন্ধকতা
- 📌 অতীত ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে মানসিক দেয়াল তৈরি করে, যা পরবর্তী কাজ শুরু করতে বাধা দেয়
- 📌 এডিএইচডি, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার মতো সমস্যাও মানসিক সহনশীলতা কমিয়ে দেয়
- 📌 নিজেকে দোষ না দিয়ে আবেগ স্বীকার করে নেওয়া ও কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নেওয়াই সমাধান
📰 বিস্তারিত
শিকাগোর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. মারা সারিপল্লির মতে, মানুষ যখন কোনো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক অস্বস্তি এড়াতে চায়, তখনই কাজের জড়তা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি, কারণ অপরাধ বোধ বা লজ্জা মানুষকে আরও অচল করে ফেলে।
কোচ ব্রেনডান মাহানের মতে, অতীতে কোনো কাজে ব্যর্থ হয়ে বকা শোনার অভিজ্ঞতা থাকলে তা মস্তিষ্কে একটি মানসিক দেয়াল তৈরি করে। এই দেয়াল পরবর্তীতে একই ধরনের কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফুশিয়া সিরোইস বলেন, কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নেতিবাচক আবেগ নিখুঁত করার মানসিকতা এবং ভুল করার ভয়ই কাজ পিছিয়ে দেওয়ার মূল কারণ।
এ ছাড়া এডিএইচডি, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যাও মানুষের মানসিক সহনশীলতা কমিয়ে দেয়। এই মানসিক চাপ ও অপরাধবোধ থেকে শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে, যেমন পেটের ব্যথা, হজমের সমস্যা, বিষণ্নতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস।
"অপরাধ বোধ বা লজ্জা মানুষকে আরও অচল করে ফেলে। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে আবেগগুলো স্বীকার করে নিতে হবে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি।"
বিশেষজ্ঞরা কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বড় কোনো কাজ দেখে ভয় পেলে সেটিকে একদম ছোট ও সহজ মাইক্রো স্টেপে ভেঙে ফেলা উচিত। এতে কাজ শুরু করা সহজ হয়। কোনো কাজে আগ্রহ না থাকলে সেখানে খেলা, নতুনত্ব, চ্যালেঞ্জ কিংবা ডেডলাইন যুক্ত করে অনুপ্রেরণা বাড়ানো যায় বলে মত দিয়েছেন তারা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. ফুশিয়া সিরোইস, ড. মারা সারিপল্লি, ব্রেনডান মাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: উল্লেখযোগ্য নয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!