📌 ঢাকার ফুটপাতের চাঁদাবাজি অর্থনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনা মডেল প্রস্তাব করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে চাঁদাবাজির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা এই খাতের সাথে জড়িত
ঢাকার ফুটপাতের চাঁদাবাজি অর্থনীতির বিরুদ্ধে স্থায়ী সমাধান খোঁজার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনা মডেল প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই সমস্যা সমাধান হবে না—চাঁদাবাজির অর্থনীতিও বন্ধ করতে হবে এবং হকারদের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩ হাজার কোটি টাকা** চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক প্রভাব: ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী ঢাকার ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বার্ষিক পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৬ সালের ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 **১০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা** জড়িত: ঢাকার হকার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবিকা এই খাতের উপর নির্ভরশীল, যা উচ্ছেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
- 📌 **২৩০ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী** চাঁদাবাজির পৃষ্ঠপোষক: পুলিশের তালিকায় চিহ্নিত ২৭৮ জন দখলদারদের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মী।
- 📌 **ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি** প্রস্তাব: প্রতিটি ওয়ার্ডে হকারদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা।
- 📌 **ডিজিটাল তালিকা ও রসিদ ব্যবস্থা**: হকারদের নাম প্রকাশ্য ডিজিটাল তালিকায় রাখা, সরকারি ফি সরাসরি নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া এবং প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে রসিদ প্রদানের ব্যবস্থা প্রস্তাবিত।
📰 বিস্তারিত
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট প্রকাশ করে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকার ফুটপাতের দখল ও চাঁদাবাজির অর্থনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ফুটপাতের মালিক রাষ্ট্র, কিন্তু ব্যবসা করে হকাররা, অথচ চাঁদা আদায় করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজ চক্র। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তন হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পাটওয়ারী ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত ২৭৮ জনের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রকে নিয়ন্ত্রণ না করে শুধু হকার উচ্ছেদ করলে কিছুদিন পর আবার ফুটপাত দখল হবে এবং আগের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের মাধ্যমে একই ব্যবসা চালু হতে পারে।
হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় হকার ও তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। বিকল্প কর্মসংস্থান বা ব্যবসার উপযুক্ত জায়গা নিশ্চিত না করে হকারদের উচ্ছেদ করলে তারা আবারও ফুটপাতে ফিরে আসতে বাধ্য হবে। তিনি জানান, হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ডিজিটাল কার্ড ও নির্ধারিত বিক্রয় এলাকার উদ্যোগ থাকলেও কতজন হকার নিবন্ধিত হয়েছে এবং কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সমাধান হিসেবে তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে হকারদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কমিটির মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন হকার ব্যবসা করতে পারবেন, কোন সময়ে বসতে পারবেন এবং কী পরিমাণ ফি দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পথচারীদের চলাচল, ক্রেতার উপস্থিতি ও হকারদের আয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি।
"ফুটপাতের মালিক রাষ্ট্র, সেখানে ব্যবসা করেন হকাররা, অথচ ভাড়া আদায় করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজ চক্র। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তন হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার কোটি টাকা (চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক প্রভাব), ১০ লাখ (জীবিকা-সংক্রান্ত মানুষ), ২৩০ জন (রাজনৈতিক নেতাকর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!