📌 ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বাংলাদেশ সফর শেষে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে জিডিপির ৫% বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শিশুবিবাহ বন্ধ ও রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণেরও দাবি তুলেছেন
বাংলাদেশে শিশুদের কল্যাণে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি দারিদ্র্য ও শিক্ষা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সফরকালে ঢাকার কড়াইল বস্তি ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে তিনি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জিডিপির ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জিডিপির ৫% বিনিয়োগের আহ্বান**: ক্যাথরিন রাসেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন।
- 📌 **শিশুবিবাহ বন্ধের দাবি**: বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪৭.২ শতাংশ নারী শিশুবিবাহের শিকার। রাসেল মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিতকরণের দাবি তুলেছেন।
- 📌 **রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ**: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
- 📌 **বুশরার গল্প**: ১৪ বছর বয়সী বুশরা নামের এক কিশোরীর গল্প উল্লেখ করে রাসেল বলেছেন, ইউনিসেফের সহায়তায় শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের নেতারা তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে শিশুবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন।
- 📌 **সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা**: রাসেল সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ক্যাথরিন রাসেল ঢাকার কড়াইল বস্তিতে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি দারিদ্র্য, পড়াশোনার প্রতিবন্ধকতা এবং মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগের বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শুনেন। তিনি বলেন, “মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটির এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।”
রাসেল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।”
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাসেল ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে—এটা হতে দেওয়া যাবে না। তাদের এবং যে কমিউনিটি তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।”
"বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কড়াইল বস্তি), কক্সবাজার (রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাথরিন রাসেল (ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক), শামা ওবায়েদ ইসলাম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), বুশরা (১৪ বছর বয়সী কিশোরী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ শতাংশ (জিডিপি বিনিয়োগ), ৪৭.২ শতাংশ (শিশুবিবাহের হার), ১৪ বছর (বুশরার বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!