📌 উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সরকার ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের পথ খুলেছে। প্রকল্পের আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন নির্মাণ ও ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে
উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যা সমাধানের পথ খুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।
- 📌 প্রকল্পের আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করা হবে, যা কৃষি ও শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
- 📌 বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেছেন, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা পাল্টে দেবে এবং বন্যা-প্রবণ এলাকাগুলোকে অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তর করবে।
- 📌 নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- 📌 পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সমীক্ষা প্রকল্পের প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করবে।
- 📌 পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
- 📌 পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী জাতীয় সংসদে প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরেন।
📰 বিস্তারিত
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেছেন, সরকারের এই সমন্বিত পরিকল্পনা কেবল নদী রক্ষাই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর তৈরি সড়ক উত্তরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে। বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোকে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেছেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে এই সমীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেছেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।
"প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করা হবে। এই জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরবঙ্গ (রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, মোহাম্মদ এজাজ, ড. মো. আতাউর রহমান, ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন, এস এম শাকিল আখতার, শহীদউদ্দীন চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ কোটি টাকা (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা), ১১০ কিলোমিটার (নদীতীর রক্ষা ও ড্রেজিং), ৬৭টি (গ্রোয়েন), ২২৪ কিলোমিটার (বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ), ১৭০ বর্গকিলোমিটার (নতুন জমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!