📌 উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে সরকার। ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ২২৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও ৬৭টি গ্রোয়েন নির্মাণের কথা রয়েছে
উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণে তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে বর্তমান সরকার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। এই উদ্যোগের পিছনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে
- 📌 ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং ও ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে
- 📌 ৬৭টি গ্রোয়েন নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য
- 📌 ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাঁচ জেলায় ৪২.১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে
- 📌 মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেছেন, প্রকল্পটি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায় সহায়ক হবে
- 📌 বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের মূল কাজে ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কারের কথা রয়েছে। পাশাপাশি নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রস্তাবও রয়েছে।
মহাপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য তিস্তা অববাহিকায় বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কমানো, নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর বিকাশ ঘটানো। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেছেন, সমন্বিত এ পরিকল্পনা নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বর্ষাকালে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাঁধ ও এর ওপর সড়ক সহায়ক হবে।
নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজের মতে, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমানও উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
"সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদানের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক যাচাই করা হবে।"
— পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট (৫ জেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, ড. মো. আতাউর রহমান, মোহাম্মদ এজাজ, ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ কোটি টাকা (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা), ১১০ কিলোমিটার (নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং), ২২৪ কিলোমিটার (বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ), ৬৭টি (গ্রোয়েন), ১৭০ বর্গকিলোমিটার (ভূমি পুনরুদ্ধার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!