📌 ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার সোনাপাতিলা গ্রামে শাঁখামুটি ও গন্ধগোকুলসহ ১৩টি প্রাণীর ২৬টি অবয়বের আলোকিত প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। স্থানীয় ৫০ জন নারী শিল্পী এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে
ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার সোনাপাতিলা গ্রামে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পুকুরপাড়ে জ্বলে উঠলো আলোকিত প্রাণী প্রদর্শনী। বিশাল আকৃতির শাঁখামুটি, গন্ধগোকুল, বেজি, কাঠবিড়ালি, কুমিরসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর অবয়ব বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি। এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় ৫০ জন নারী শিল্পী। শিল্পীদের অধিকাংশই নারী এবং তারা স্থানীয় গল্প ও লোকজ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৩টি প্রাণীর ২৬টি অবয়ব প্রদর্শিত হচ্ছে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে পুকুরপাড়ে।
- 📌 ৩৩ ফুট লম্বা শাঁখামুটি সাপ তৈরি করা হয়েছে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে, যা বিষধর সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- 📌 ৫০ জন নারী শিল্পী মিলে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই নারী।
- 📌 চার দিনব্যাপী শোভাযাত্রা গ্রামের চারটি এলাকা থেকে শুরু হবে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন নারী, পুরুষ ও শিশু।
- 📌 প্রকৃতির সাথে প্রাণীদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শনার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনী।
📰 বিস্তারিত
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পুকুরপাড়ে জ্বলে উঠলো আলোকিত প্রাণী প্রদর্শনী। স্থানীয় গ্রামের ৫০ জন বাসিন্দা, যার অধিকাংশই নারী, মিলে তৈরি করেছেন এই শিল্পকর্ম। এই প্রদর্শনীতে শাঁখামুটি, গন্ধগোকুল, বেজি, গন্ধগোকুল, ভোঁদড়, কাঠবিড়ালি, কুমির, মদনটাক, প্রজাপতি, ফড়িং, রুই-কাতলাসহ ১৩টি প্রাণীর ২৬টি অবয়ব প্রদর্শিত হচ্ছে।
‘গিদরী বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টস’ এই প্রদর্শনী আয়োজন করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের সভাপতি কামরুজ্জামান স্বাধীন বলেছেন, ‘পরিবেশগত কারণে অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রদর্শনীতে প্রাণীদের হারিয়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয় মানুষের চিন্তা ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণীদের সম্পর্কের কথাই নতুন করে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই।’
প্রদর্শনীতে ৩৩ ফুট লম্বা শাঁখামুটি সাপের অবয়বও রয়েছে, যা বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি। শিল্পীদের একজন আমল টুডু বলেছেন, ‘শাঁখামুটি অন্য সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে। কালাচ, চন্দ্রবোড়া ও গোখরার মতো বিষধর সাপও এর খাদ্য। প্রকৃতিতে শাঁখামুটির সংখ্যা কমে গেলে বিষধর সাপের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক শহীদ জাকিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘হারিয়ে যেতে বসা প্রাণীদের প্রতিকৃতি দেখে ভালো লেগেছে। এমন আয়োজন থেকে মানুষ কিছুটা সচেতন হলে আমাদেরই উপকার। পরিবেশ সংরক্ষণের কথা এলাকার সব শ্রেণির মানুষ জেনে অঙ্গীকার করে, তখন আমাদের মধ্যে আশার আলো জেগে ওঠে।’
"পরিবেশগত কারণে অনেক প্রাণী মানুষের আশপাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় গল্প ও লোকজ জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এসব শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে প্রাণীগুলোর হারিয়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয় মানুষের চিন্তা ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনাপাতিলা গ্রাম, ভূল্লী উপজেলা, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুজ্জামান স্বাধীন (গিদরী বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টসের সভাপতি), আমল টুডু (শিল্পী), শহীদ জাকিরুল হক চৌধুরী (শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জন নারী শিল্পী, ১৩টি প্রাণী, ২৬টি অবয়ব, ৩৩ ফুট শাঁখামুটি সাপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!