📌 ঝিনাইদহের শিক্ষক মিশন আচার্য (৩০) প্রাথমিক শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তাঁর নাম বাদ পড়েছে। মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন
ঝিনাইদহের শিক্ষক মিশন আচার্য (৩০) প্রাথমিক শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। তাঁর পরিবার ভাড়া বাসায় বসবাস করে এবং কোনো স্থায়ী বাড়ি নেই। এই কারণে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তাঁর নাম বাদ পড়েছে। মিশন আচার্য জানান, তাঁর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের শিক্ষক মিশন আচার্য (৩০) প্রাথমিক শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না
- 📌 ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মিশন আচার্য ও আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি
- 📌 মিশন আচার্যের বড় ভাই শৈলেন আচার্য কাপড়ের ব্যবসায় জড়িত, কিন্তু মিশন আচার্য স্নাতকোত্তর শেষ করে শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন
- 📌 মিশন আচার্যের বাবা নন্দ আচার্য ঝিনাইদহে থাকার সময় বাড়ি ছেড়ে চলে যান, মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে পরিবারকে বড় করেছেন
- 📌 ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেছেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছেন, কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। মিশন আচার্য জানান, তাঁর সঙ্গে যে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি, যাঁদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে স্থায়ী ঠিকানা না পেয়ে।
মিশন আচার্য বলেন, তাঁর বড় ভাই শৈলেন আচার্য অন্যের সঙ্গে ভাগে কাপড়ের ব্যবসা করেন। বাবা নন্দ আচার্যের বাড়ি ছিল যশোর। তাঁর মা ময়না আচার্যের সঙ্গে বিয়ের পর ঝিনাইদহে থাকতেন। মাকে কখনো যশোর নিয়ে যাননি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানে ভাড়া বাড়িতে ছিল তাঁদের সংসার। মায়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঝিনাইদহে থাকা অবস্থায় তাঁর বড় ভাইয়ের জন্ম হয়। তিনি মায়ের গর্ভে এলে বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান, আর কখনো ফিরে আসেননি।
মিশন আচার্য বলেন, বাবা চলে যাওয়ার পর মা অসহায় হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তিনি অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন। এভাবেই তাঁদের দুই ভাইকে বড় করেছেন। বড় ভাই সংসারের চাপে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি। তবে মিশন আচার্য এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে মায়ের কষ্ট হলেও তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেন।
মিশন আচার্য জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিতে গেলে তাঁকে জানানো হয়েছে তাঁর কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় বড় হয়েছেন মিশন আচার্য। সেখানে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা কলাবাগান। তাঁর সব শিক্ষাসনদে কলাবাগানের ঠিকানা রয়েছে। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁর এই বাসায় গিয়ে পুলিশি যাচাইও করা হয়। তারপরেও তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
মিশন আচার্যের বড় ভাই শৈলেন আচার্য বলেন, তাঁদের জীবন কেটেছে অতি কষ্টে। এর মধ্যেও তাঁর ভাই পড়ালেখা করেছেন। এখন বাড়িঘর না থাকায় চাকরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, মিশন আচার্য ও তাঁর বন্ধুরা এসে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত একটা সমাধান হবে বলে আশা করছেন।
"আমাদের জীবন কেটেছে অতি কষ্টে। এর মধ্যেও ভাই পড়ালেখা করেছেন। এখন বাড়িঘর না থাকায় চাকরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ শহর, কলাবাগান, ঝিনাইদহ জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিশন আচার্য (৩০), ময়না আচার্য, শৈলেন আচার্য, মো. আমজাদ হোসেন, মো. নোমান হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ (বয়স), ১৮২ (সুপারিশপ্রাপ্ত), ১৮০ (নিয়োগপ্রাপ্ত), ৫.০ (জিপিএ), ৪.৮৩ (জিপিএ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!