📌 সাতক্ষীরার তানিয়া এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল শিক্ষকদের সহায়তায়। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ২০২৫ সালে ৪৭.২ শতাংশে নেমে আসলেও কিশোরী জন্মহার বেড়েছে ৯২টি প্রতি হাজার কিশোরীতে
সাতক্ষীরার তানিয়া খাতুন এসএসসি পরীক্ষায় রসায়নে ১০০ এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৯৯ পেয়ে জিপিএ-৫ পেলেও তার মাথায় ছিল বাল্যবিবাহের চাপ। শিক্ষকদের সহায়তায় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনি বিয়ের হাত থেকে রেহাই পান। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করো, মেয়েদের অধিকারে বিনিয়োগ করো’-এর বিপরীতে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার ২০২৫ সালে ৪৭.২ শতাংশে নেমে আসলেও কিশোরী জন্মহার বেড়েছে ৯২টি প্রতি হাজার কিশোরীতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার তানিয়া খাতুন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পান শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীদের সহায়তায়
- 📌 ২০২৫ সালের এমআইসিএস জরিপে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭.২ শতাংশের বিয়ে হয় ১৮ বছর বা তার কম বয়সে
- 📌 ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৫-১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর হার বেড়েছে ৩২.৯ থেকে ৩৮.৯ শতাংশে
- 📌 কিশোরী জন্মহার ২০১৯ সালে ছিল ৮৩টি প্রতি হাজার কিশোরী, বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ৯২টি
- 📌 তানিয়ার বিয়ের আলাপ ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক আকলিমা খাতুন ও ফয়েজুল হক পরিবারকে বোঝান, শেষমেশ ইউএনও হস্তক্ষেপ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়
- 📌 বাল্যবিবাহের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক রীতি ও আইন প্রয়োগের দুর্বলতা
📰 বিস্তারিত
১৭ বছর বয়সী তানিয়া খাতুন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। রসায়নে ১০০ এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৯৯ পেয়ে তিনি জিপিএ-৫ পেলেও তার মাথায় ছিল বাল্যবিবাহের চাপ। বিয়ের আলাপ ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের চাপে তিনি চাপে পড়েন। কিন্তু শিক্ষক আকলিমা খাতুন ও ফয়েজুল হক তানিয়ার পরিবারকে বোঝান যে, “এত ভালো ফলাফল পেলেও মেয়েকে বিয়ে দেবেন? আমরা পাঁচ বছর ধরে তাকে পড়িয়েছি। আমাদেরও মেয়ের ওপর অধিকার আছে।”
শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মী সাকিবুর রহমানের সহায়তায় তানিয়া ও তার পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গেলেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষমেশ বিয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। সাকিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “তানিয়ার লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার স্নাতকোত্তর মা। একজন শিক্ষিত মাই পারেন এ ধরনের প্রতিকূলতায় সবচেয়ে বড় সাহস করতে।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের সর্বশেষ এমআইসিএস-২০২৫ জরিপে দেখা যায়, ২০১৯ সালে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৫১.৪ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ৪৭.২ শতাংশে নেমে আসলেও ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭.২ শতাংশের বিয়ে হয় ১৮ বছর বা তার কম বয়সে। ১৫-১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর হার ২০১৯ সালে ছিল ৩২.৯ শতাংশ, বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ৩৮.৯ শতাংশ।
জন্মনিবন্ধনের ঘাটতিও বাল্যবিবাহের একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জরিপে জানা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র ৫৯.২ শতাংশের জন্মনিবন্ধন হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী নারীর ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ এবং পুরুষের ২১। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ ও অভিভাবকের সম্মতিতে কম বয়সে বিয়ে হলে তা আইনে অপরাধ বলে গণ্য হয় না।
"এত ভালো রেজাল্ট করল, মেয়েটাকে এভাবে বিয়ে দিয়ে দেবেন? আমাদেরও মেয়ের ওপর একটা অধিকার আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তানিয়া খাতুন, আকলিমা খাতুন, ফয়েজুল হক, সাকিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ (রসায়নে), ৯৯ (পদার্থবিজ্ঞানে), ৪৭.২ (বাল্যবিবাহের হার), ৩৮.৯ (১৫-১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর হার), ৯২ (কিশোরী জন্মহার প্রতি হাজার কিশোরীতে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!