📌 গ্রিসের এক গহনা ডিজাইনারের মতো যারা নাম শুনলেই স্বাদ অনুভব করেন তাদের বিরল অভিজ্ঞতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা। বিশ্বের মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ মানুষের এমন ক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গ্রিসের তরুণ গহনা ডিজাইনার কনস্ট্যান্টিনা মাক্রিডাকিসের কাছে নাম শুনলেই স্বাদ অনুভব করা স্বাভাবিক ব্যাপার। তাঁর বাবার নাম নিকোলাসের স্বাদ ছিল ক্যারামেল মোড়ানো চকলেটের মতো, আর মায়ের নাম মারিয়ার স্বাদ ছিল প্রনসহ পাস্তার মতো। তিনি দীর্ঘদিন বুঝতে পারেননি যে তাঁর এই ক্ষমতা অস্বাভাবিক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্রিসের ২৮ বছর বয়সী গহনা ডিজাইনার কনস্ট্যান্টিনা মাক্রিডাকিস নাম শুনলেই স্বাদ অনুভব করেন
- 📌 তাঁর মতে, শব্দ ও নামের সঙ্গে স্বাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল বলে তিনি কখনো প্রশ্ন করেননি
- 📌 তাঁর বোন আমেলিয়ার নামের স্বাদ ছিল মিষ্টি, প্রায় সিরাপ বা জেলির মতো
- 📌 পরে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর এমন ক্ষমতা রয়েছে, যা বিজ্ঞানের ভাষায় 'সিনেস্থেসিয়া' নামে পরিচিত
- 📌 বিশ্বের মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ এই বিরল ক্ষমতার অধিকারী বলে ধারণা করা হয়
📰 বিস্তারিত
কনস্ট্যান্টিনা মাক্রিডাকিস নাম শুনলেই স্বাদ অনুভব করার বিরল ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর কাছে নামগুলো শুধু শব্দ নয়, বরং স্বাদের অনুভূতি হিসেবে উপস্থাপিত হয়। তাঁর বাবার নাম নিকোলাসের স্বাদ ছিল ক্যারামেল মোড়ানো চকলেটের মতো, আর মায়ের নাম মারিয়ার স্বাদ ছিল প্রনসহ পাস্তার মতো। এমনকি তাঁর বোনের নাম আমেলিয়ার স্বাদ ছিল মিষ্টি, প্রায় সিরাপ বা জেলির মতো।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করতেন যে সবার কাছেই এমন অভিজ্ঞতা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, "আমি ভেবেছিলাম সবারই এই ক্ষমতা রয়েছে। আমার কাছে এটি স্বাভাবিক মনে হতো। আমরা মুখ দিয়ে কথা বলি, তাই নাম ও শব্দের স্বাদ অনুভব করা স্বাভাবিক বলেই মনে হতো। এটি আমার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে আমি কাউকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করিনি।"
তবে তাঁর এই ধারণা পাল্টে যায় যখন তাঁর বোন আমেলিয়া তাঁকে সিনেস্থেসিয়া সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্র দেখান। এরপর তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর এমন ক্ষমতা রয়েছে, যা বিজ্ঞানের ভাষায় 'সিনেস্থেসিয়া' নামে পরিচিত। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তির এক ধরনের ইন্দ্রিয় উদ্দীপনা অন্য ইন্দ্রিয়ের উদ্দীপনা তৈরি করে।
সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার কেন্দ্রের গবেষক জানিনা নিউফেল্ড নিজেও সিনেস্থেসিয়ার একটি হালকা ধরনের অধিকারী। তিনি বলেন, "আমরা যখন সঙ্গীত শুনি, বেশিরভাগ মানুষই শব্দকে উজ্জ্বল, ক্ষুদ্র বা উচ্চস্থানে অনুভব করতে পারেন। এটি অনেকটা সিনেস্থেটিকদের অনুভূতির মতো।"
বিশ্বের মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ সিনেস্থেসিয়ার কোনো না কোনো ধরনের অধিকারী বলে ধারণা করা হয়। অনেকেই নিজেদের এই ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নন। নিউফেল্ড আরও বলেন, "এই ধরনের সংযোগ মস্তিষ্কের নিউরনের মধ্যে কম 'সিন্যাপটিক প্রুনিং' হওয়ার কারণে ঘটতে পারে। এটি শৈশবে ঘটে থাকে, যেখানে অপ্রয়োজনীয় নিউরন ও সিন্যাপস অপসারণ করা হয়।"
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, "একটি শিশু তার মায়ের কণ্ঠকে শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু অপরিচিত কারও কণ্ঠকে প্রুনিং করতে পারে। সিনেস্থেটিকদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া কম ঘটে বলে অতিরিক্ত ক্রস-সেন্সরি সংযোগ থেকে যায়।"
"আমি ভেবেছিলাম সবারই এই ক্ষমতা রয়েছে।"
"এটি আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হতো। আমরা মুখ দিয়ে কথা বলি, তাই নাম ও শব্দের স্বাদ অনুভব করা স্বাভাবিক বলেই মনে হতো। এটি আমার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে আমি কাউকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করিনি।"
"জেন্টলম্যান, একটু বেশি নীল রঙের দিকে যাবেন, প্লিজ!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কনস্ট্যান্টিনা মাক্রিডাকিস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর, ২ থেকে ৪ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!