📌 সিলেটের পর্যটন এলাকায় বনাঞ্চল ও পাহাড়-টিলা উজাড় করে শত শত অবৈধ রিসোর্ট নির্মিত হচ্ছে। এসব রিসোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও পরিবেশ অনুমোদন না থাকায় পর্যটকদের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। সরকারি তদারকির অভাব ও অনুমোদনহীন ব্যবসা চলছে
সিলেটের পর্যটন খাতের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকায় বনাঞ্চল ও পাহাড়-টিলা উজাড় করে শত শত অবৈধ রিসোর্ট নির্মিত হচ্ছে। এসব ‘খুপরি’ নামে পরিচিত রিসোর্টগুলো পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত এসব রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা বা নৈশপ্রহরী না থাকায় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সিলেটে ২০০টি রিসোর্টের মধ্যে শত শত অবৈধ**: সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত রিসোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ অনুমোদন নেই।
- 📌 **পর্যটকদের ঝুঁকি**: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক নিহত হওয়ার পর সিলেটের অবৈধ রিসোর্টগুলোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 **অনুমোদনহীন ব্যবসা**: রিসোর্ট মালিকরা শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন, পরিবেশ অধিদফতর থেকে কোনো অনুমোদন নেই।
- 📌 **বনাঞ্চল ধ্বংস**: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও চা বাগানের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে রিসোর্ট নির্মাণের কারণে।
- 📌 **বৈধ রিসোর্ট মালিকদের ক্ষোভ**: শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় বসতভিটা ইকো রিসোর্টে পরিণত হয়েছে, কিন্তু কোনো আইনি তোয়াক্কা নেই।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বনাঞ্চল ও পাহাড়-টিলা উজাড় করে নির্মিত হচ্ছে শত শত অবৈধ রিসোর্ট। এসব রিসোর্টকে ‘খুপরি’ বলা হয়, যেখানে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘরগুলো দেখতে পরিবেশবান্ধব মনে হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অধিকাংশ রিসোর্টে নেই অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা বা নৈশপ্রহরী। রিসোর্ট মালিকরা নিজেই ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন, ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হাতছাড়া।
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত এসব রিসোর্টের সংখ্যা সিলেট জেলায় প্রায় ২০০টি। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শতাধিক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাধানগর এলাকায় ৪০ থেকে ৫০টি ইকো রিসোর্ট রয়েছে। এসব রিসোর্ট নির্মাণে জড়িত ঢাকার বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানি, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রিয় অভিনেতা ও ক্রিকেট তারকাসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তি। অনেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে মাত্র ২ থেকে ৩ শতক জমি কিনে বা টিলা লিজ নিয়ে রিসোর্ট ব্যবসা চালাচ্ছেন।
সরকারি তদারকির অভাবের কারণে এসব অবৈধ রিসোর্টের সংখ্যা বাড়তে থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটক নিহত হওয়ার পর সিলেটের অবৈধ রিসোর্টগুলোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
"অনুমোদন ছাড়াই চলছে ২ জেলার পর্যটন ব্যবসা। সিলেট জেলায় অন্তত সাড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট (শ্রীমঙ্গল, রাধানগর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিসোর্ট মালিক (ঢাকার গ্রুপ অব কোম্পানি, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, অভিনেতা, ক্রিকেট তারকা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০টি রিসোর্ট (সিলেট জেলা), ১০টি নিহত (কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ড), ১৩ একর জমি (গ্র্যান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট), ২৫ বছর (রিসোর্ট নির্মাণের ইতিহাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!