📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দু’গ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে স্থাপিত দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্টের উদ্বোধন হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ত পানির সংকটে ভুগছিলেন এলাকার অধিবাসীরা, এখন তারা ঘরের নল থেকে পাচ্ছেন সুপেয় পানি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নদী-নালার কোলে অবস্থিত খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে আজ একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানির সংকটে ভুগছিলেন এই অঞ্চলের অধিবাসীরা। কিন্তু বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে স্থাপিত দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস (RO) পানি শোধনাগার তাদের জীবন বদলে দিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও শাবাব আহমেদ উদ্বোধন করেন দুটি RO প্ল্যান্ট, যা শ্যামনগরের খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে স্থাপিত
- 📌 ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯ সালের আইলা থেকে এলাকার পানি পানের যোগ্যতা হারিয়ে যায়, লবণাক্ততা ও বিষাক্ততা বাড়ে
- 📌 প্রতি লিটার পানি ৫০ পয়সা খরচে, ক্যাশলেস সিস্টেমে এবং সোলার প্যানেলে চালিত প্ল্যান্ট
- 📌 ১০টি সোলার প্যানেল প্রতিটি প্ল্যান্টে বসানো হয়েছে, যা লোডশেডিং থেকে মুক্ত রাখে
- 📌 স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণে
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট ছিল। উপকূলীয় এলাকায় মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ায় অধিবাসীরা পেটের পীড়া, চর্মরোগ ও কিডনি জটিলতার মতো সমস্যায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯ সালের আইলা প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের পর থেকে এলাকার পানি পানের যোগ্যতা হারিয়ে যায়।
আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও শাবাব আহমেদ জানান, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সংকট ও মানবিক বিপর্যয় তাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। করোনা মহামারীর সময় বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এই প্রকল্পে এগিয়ে আসেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র সংকটে পড়া এই জনপদে মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবন উপহার দিতে এই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপের সিআর প্রধান ফেরদৌস ফয়সাল, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনির, স্থানীয় সমাজসেবক মহিউদ্দীন সরদার এবং প্রকল্পের সভাপতি নূর উদ্দীন সরদার।
"আমাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র সংকটে পড়া উপকূলীয় জনপদে মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবন উপহার দিতে এই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে।"
প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে অত্যন্ত আধুনিক ও অপচয়হীন স্মার্ট ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ডিজিটাল কার্ড, যা পাম্পের সামনে স্পর্শ করলেই পানি পড়ে এবং সরিয়ে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি লিটার পানির পরিচালন খরচ ধরা হয়েছে মাত্র ৫০ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারের চেয়ে অনেক কম। পল্লী বিদ্যুতের চাপ ও লোডশেডিং থেকে মুক্ত থাকার জন্য প্রতিটি প্ল্যান্টে ১০টি করে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্যামনগর উপজেলা, সাতক্ষীরা (খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাবাব আহমেদ (আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও), নূর উদ্দীন সরদার (প্রকল্প সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রতি লিটার পানি ৫০ পয়সা, প্রতিটি প্ল্যান্টে ১০টি সোলার প্যানেল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!