📌 সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিষ্ঠিত 'সুন্দরবন মিউজিয়াম' হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণ করছে। স্থানীয়দের দেওয়া পুরোনো ঠুসি, ক্যাসেট, ক্যামেরা থেকে শুরু করে জমিদারবাড়ির নকশা পর্যন্ত এখানে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহশালার কর্মীরা বলেছেন, মানুষের আবেগের গল্পের সাথে জড়িয়ে থাকা এই জিনিসপত্রের সংরক্ষণই তাদের মূল উদ্দেশ্য
সুন্দরবনের স্মৃতিসংগ্রহালয়ে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের জাদু: মানুষের স্মৃতি আর আবেগের গল্প। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব ধানখালী গ্রামে অবস্থিত ‘সুন্দরবন মিউজিয়াম’-এ স্থানীয়দের দেওয়া পুরোনো জিনিসপত্রের মাধ্যমে স্মৃতি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই সংগ্রহশালায় স্থানীয়দের দেওয়া ঠুসি, ক্যাসেট, ক্যামেরা, টেলিভিশন থেকে শুরু করে জমিদারবাড়ির নকশা পর্যন্ত সংরক্ষিত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সখী রানী মণ্ডল (৪৬) তার বাড়ির পুরোনো ঠুসি সংগ্রহশালায় দিয়েছেন, যেখানে তার নিজের স্মৃতি জড়িয়ে আছে
- 📌 সুবোধ মণ্ডল (৫২) তার মামার স্মৃতি সংবলিত একটি ক্যাসেট সংগ্রহশালায় দিয়েছেন, বলেছিলেন: ‘আপনারা এটাকে আগলে রাখবেন’
- 📌 সংগ্রহশালায় রয়েছে সুন্দরবনের গাছের নমুনা, নদীর পানি, শতাধিক দেশি শাকসবজির বীজ এবং পুরোনো ক্যামেরা, রেডিও, টেলিভিশনসহ নানা ঐতিহ্যবাহী জিনিস
- 📌 সংগ্রহশালায় ১৯৫৮ সালের দরখাস্ত, জীবনবিমার কাগজ, বনবিবির পূজার পাঁচালি এবং শ্যামনগরের নকিপুর জমিদারবাড়ির পুরোনো স্থাপনার নকশা সংরক্ষিত
- 📌 বেসরকারি সংস্থা ‘প্রেরণা’ ২০২৫ সালে এই সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করে, এখনো সংগ্রহের কাজ চলছে
- 📌 সংগ্রহশালায় ৮০ শতাংশ জিনিস সংগ্রহ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও তিন-চারটি ঘর করার পরিকল্পনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
সুন্দরবন মিউজিয়ামের ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে গ্রামবাংলার পুরোনো দিনের নানা সামগ্রী। কাঠের পালকি, জাঁতা, ঢেঁকি, মাটির পাত্রসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র সাজানো আছে। পাশে সারিবদ্ধ সাদা ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বনবিবির কাহিনির বিভিন্ন চরিত্র। সংগ্রহশালার কর্মী বৃষ্টি মণ্ডল বলেন, ‘হরিণগর এলাকার এক ব্যক্তি নিজের হাতে তৈরি সাদা-কালো টেলিভিশনের কাঠের ফ্রেম ও পেছনের কাঠামো এখানে রাখা হয়েছে’।
সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত জিনিসগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে মানুষের আবেগের নানা গল্প। ছন্দা মল্লিক বলেন, ‘যাঁর কাছে যা ছিল, সাধ্যমতো আমাদের দিয়েছেন। অনেকেই পুরোনো জিনিস দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়েছেন। একবার এক বৃদ্ধা তার পুরোনো সিসার কৌটাটি দিয়ে দিয়েছিলেন’।
সংগ্রহশালার উদ্দেশ্য হলো উপকূলের মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা। প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, ‘মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার ক্ষতি টাকায় মাপা যায় না। নতুন প্রজন্ম যেন পূর্বপুরুষদের জীবনযাপন ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য জানতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এই সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে’।
সুধারানী বর্মণ (৩৭) বলেন, ‘এখানে পুরোনো দিনের এমন অনেক জিনিস রাখা আছে, যেগুলো এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। তাই ছেলেকে এসব দেখাতে নিয়ে এসেছি। জিনিসগুলো দেখে নিজের ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ে’।
"আমার মামা এটা আমাকে দিয়েছিলেন। তিনি এখন নেই। এত দিন ধরে আগলে রেখেছি। আপনারা এটাকে আগলে রাখবেন।"
"মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার ক্ষতি টাকায় মাপা যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্যামনগর উপজেলা, পূর্ব ধানখালী গ্রাম, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সখী রানী মণ্ডল (৪৬), সুবোধ মণ্ডল (৫২), বৃষ্টি মণ্ডল, ছন্দা মল্লিক, শম্পা গোস্বামী, সুধারানী বর্মণ (৩৭)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ বছর (সখী রানী), ৫২ বছর (সুবোধ মণ্ডল), ৮০ শতাংশ (সংগ্রহ করা জিনিস), ৩৭ বছর (সুধারানী বর্মণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!