📌 গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র মানসিক চাপে বিড়ালকে আদর করলে নেতিবাচক অনুভূতি বাড়ে। অন্যদিকে কুকুর পালকদের ক্ষেত্রে এমন প্রভাব দেখা যায়নি। পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানোর উপায় নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে সাম্প্রতিক গবেষণা
মানসিক চাপের সময় বিড়ালকে আদর করা বা তার সঙ্গে বেশি সময় কাটানো মালিকের নেতিবাচক অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। অন্যদিকে কুকুর পালকদের ক্ষেত্রে এমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। মনোবিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এই গবেষণায় ডাচ ও বেলজিয়ামের গবেষকরা পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের মানসিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বাভাবিক সময়ে কুকুর বা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষের মন ভালো হয়, তবে তীব্র মানসিক চাপে বিড়ালের উপস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ১৮৮ জন বিড়াল পালকের মধ্যে মানসিক চাপের সময় বিড়ালের সঙ্গে বেশি মেলামেশা নেতিবাচক অনুভূতি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 কুকুর পালকদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপের সময়ও একই প্রভাব দেখা যায়নি, যা তাদের আচরণগত পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়
- 📌 বিড়ালের স্বাধীন স্বভাব ও মানুষের সঙ্গে তাদের অসম্পূর্ণ সম্পর্কই এই প্রভাবের প্রধান কারণ বলে মত গবেষকদের
📰 বিস্তারিত
ওপেন ইউনিভার্সিটি অব দ্য নেদারল্যান্ডসের গবেষক ড. মাইকেল জানসেন্স ও ড. সান পেটার্সের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক অবস্থা ও পোষা প্রাণীর সঙ্গে তাদের মেলামেশার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে কুকুর বা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষের মন ভালো হয়। তবে তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে বিড়ালের উপস্থিতি সেই চাপ কমাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। এমনকি বিড়ালের সঙ্গে বেশি মেলামেশা বা আদর করার চেষ্টা করলে মালিকের নেতিবাচক অনুভূতি ও বিরক্তি বৃদ্ধি পায়।
গবেষকদের মতে, কুকুর ও বিড়ালের আচরণগত পার্থক্যই এর মূল কারণ। কুকুর মানুষকে সাহায্য করতে বা সান্ত্বনা দিতে যতটা উদগ্রীব থাকে, বিড়ালেরা ততটা উদাসীন। অধিকাংশ মানুষ বিড়ালের শারীরিক ভাষা বা তাদের অপছন্দ বুঝতে ভুল করেন। ফলে নিজের খারাপ লাগার মুহূর্তে জোর করে বিড়ালকে আদর করতে গেলে বিড়াল বিরক্ত হয়ে সরে যেতে চায়, যা মালিকের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দৈনিক প্রায় ১০ বার তাদের মানসিক অবস্থা ট্র্যাক করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিড়াল পালকের সংখ্যা কুকুর পালকের তুলনায় কম থাকলেও নেতিবাচক অনুভূতি বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। গবেষকেরা স্বীকার করেছেন যে এই গবেষণার ফলাফল সীমিত পরিসরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল।
"পোষা প্রাণী হয়তো মুহূর্তের মধ্যে আপনার মানসিক চাপ বা অফিসের কঠিন সমস্যা সমাধান করে দিতে পারবে না। তবে তারা আপনাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারবে কিছুটা। তাই কঠিন কোনো দিনে বিড়াল যদি আপনার কোলে এসে না বসে বা দূরে সরে থাকে, তবে তাকে জোর না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম
- 👥 গবেষক দল: ড. মাইকেল জানসেন্স, ড. সান পেটার্স
- 🔢 অংশগ্রহণকারী: ১৮৮ জন বিড়াল পালক
- 🔢 ট্র্যাকিং ফ্রিকোয়েন্সি: দৈনিক প্রায় ১০ বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!