📌 দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা (৩৯)। রাঙামাটির নানিয়ারচরে অনুষ্ঠিত দাহকার্যে তার স্ত্রী শ্রেয়া চাকমা বিলাপ করে বলেন, ‘কান্না ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই’। পরিবার ও গ্রামবাসীরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা (৩৯)। গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের রামহরি পাড়ায় সামরিক মর্যাদায় ও বৌদ্ধধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার দাহকার্য সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা গভীর শোক প্রকাশ করে বলছেন, এই অকাল মৃত্যু দেশ ও পরিবারকে অপরিহার্য ক্ষতির সম্মুখীন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৯ বছর বয়সী নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
- 📌 গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির নানিয়ারচরে তার দাহকার্য অনুষ্ঠিত হয়। লাশবাহী ফ্রিজারভ্যানে করে ঢাকার নৌবাহিনী সদস্যরা তার মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসেন।
- 📌 স্ত্রী শ্রেয়া চাকমা বিলাপ করে বলেন, ‘কান্না ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। নৌবাহিনী যা করছে, অনেক করছে। কিন্তু বাচ্চাদের মানুষ করব কীভাবে জানি না।’
- 📌 ১৯৮৭ সালের ১৩ জুন জন্মগ্রহণকারী ট্রোম্যান ২০০৬ সালের ১ জুলাই নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে যোগ দেন। তিনি দক্ষিণ সুদানে যাওয়ার আগে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার কথা ছিল।
- 📌 গ্রামবাসী ও পরিবার জানান, ট্রোম্যানের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার চাচি জয়ন্তী চাকমা বলেন, ‘অর্থ দিয়ে তো মানুষের ক্ষতি পূরণ হবে না। আমরা কিছুতেই এই ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না।’
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসা। গত ২০ সেপ্টেম্বর তার গুরুতর আহত হওয়ার পর সেখানকার একটি ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত রোববার সকালে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে রাঙামাটির নানিয়ারচরে নিয়ে যাওয়া হয়।
দাহকার্যে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী শ্রেয়া চাকমা, মা-বাবা, দুই কন্যা সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় মহাপুরুম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে মরদেহ রাখা হয়। বেলা একটার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা লাশবাহী ফ্রিজারভ্যানে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা বলেন, ‘সুদানে মিশনে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর খবরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ছেলেটি খুব ভালো ছিল।’ বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ট্রোম্যানকে দেখে আসছি। দেশ ও বিশ্বশান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে তাঁর অকালমৃত্যু হয়েছে। তাঁর জন্য আমরা গর্বিত।’
"অর্থ দিয়ে তো মানুষের ক্ষতি পূরণ হবে না। আমাদের মানুষটা বেঁচে থাকলে অনন্ত দেখতে পেতাম। এই ক্ষতি আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।"
— ট্রোম্যানের চাচি জয়ন্তী চাকমা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা, বুড়িঘাট ইউনিয়ন, রামহরি পাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ট্রোম্যান খীসা (৩৯), শ্রেয়া চাকমা, সুবিমল খীসা, গঙ্গা দেবী চাকমা, অমর জীবন চাকমা, প্রমোদ খীসা, জয়ন্তী চাকমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ বছর বয়স, ১৩ জুন ১৯৮৭ (জন্ম), ১ জুলাই ২০০৬ (নৌবাহিনীতে যোগদান), ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!