📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনাঞ্চলে ২০ দিনে শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি, কনটেইনার ডিপো তৈরির লক্ষ্যে গাছ কাটা হচ্ছে, কিন্তু রেল ও বন বিভাগ নীরব। ভূমিহীন বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনাঞ্চলে প্রকাশ্যে বন উজাড় চলছে। ২০ দিনে শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে, কিন্তু রেলওয়ে ও বন বিভাগের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। স্থানীয়রা দাবি করছেন, কনটেইনার ডিপো তৈরির লক্ষ্যে এই বনাঞ্চলকে সমতল করার কাজ চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনাঞ্চলে ২০ দিনে শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে
- 📌 গাছ কাটার কাজে জড়িত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের টেন্ডারে গাছ কিনে কাটার দায়িত্ব পেয়েছেন
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেননি
- 📌 ভূমিহীন বাসিন্দাদের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হুমকিতে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে
- 📌 কনটেইনার ডিপো তৈরির লক্ষ্যে বনাঞ্চলকে সমতল করার কাজ চলছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনাঞ্চলে প্রকাশ্যে বন উজাড় চলছে। স্থানীয়রা জানান, সীতাকুণ্ড মহাসড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই এলাকাটি জঙ্গল ভাটিয়ারি নামে পরিচিত। এই এলাকায় গাছ কাটা শুরু হওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বনায়নের এই এলাকাটি একটি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলওয়ের সম্পত্তি বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে ভূমিহীন বাসিন্দাদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর বাসিন্দাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে বিকল্প পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালাতে আসায় পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় নেমে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ করেন তাঁরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেখানে গত প্রায় ২০ দিন ধরে গাছ কাটা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছোট-বড় শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। কেটে নেওয়া গাছগুলো টুকরো টুকরো করে সাতটি ট্রাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলোর কিছু কিছুর বয়স ৪০-৫০ বছর। যেখানে গাছ কাটা হচ্ছে, এর কাছাকাছি রয়েছে বন বিভাগের ফৌজদারহাট চেকপোস্ট। এই চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, রেলওয়ের সরকারি গাছ কাটার তথ্য পেয়ে এক সপ্তাহ আগে তিনি সরেজমিন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে কাটা গাছের স্তূপ দেখতে পান।
বন কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন বলেন, জায়গাটি রেলওয়ের, গাছগুলোও রেলের। কিন্তু যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গাছগুলো কোনো পক্ষকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকায় বনায়নের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ৭-৮ শ্রমিক গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা টুকরো করছেন। কিছু উঁচু টিলা কেটে সমতল করার চিহ্নও দেখা যায় সেখানে।
"জায়গাটি রেলওয়ের, গাছগুলোও রেলের। কিন্তু যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গাছগুলো কোনো পক্ষকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমি নিশ্চিত নই"
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি খাসজমি ও রেলওয়ের এ জায়গা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কনটেইনার ডিপো তৈরির কাজ করছে একটি চক্র। সেখানে গাছ কাটায় জড়িত রহমান মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, গাছগুলো রেলওয়ে ও সরকারি বনায়নের। তিনি দাবি করেন, এক ব্যক্তি রেলওয়ে থেকে টেন্ডারে গাছগুলো কিনে তাঁদের কাটার দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পেয়ে অনেক গাছ কেটেছেন বলে স্বীকার করলেও কে তাঁদের নিয়োজিত করেছেন, তা জানাতে চাননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সেখানে গাছ কাটার কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। গাছ কাটার কোনো টেন্ডারও দেওয়া হয়নি। এই কথোপকথনের পর খোরশেদ আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলেন। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়। তবে এরপর তিনি আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট, জঙ্গল ভাটিয়ারি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন, রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, রহমান মনির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ দিন, শতাধিক গাছ, ৪০-৫০ বছর বয়সী গাছ, ৭টি ট্রাক, ৭-৮ শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!