📌 সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত 'এক ডিমের মসজিদ' বা 'গায়েবি মসজিদ' নামের প্রাচীন স্থাপনা কালের রহস্য নিয়ে আবৃত। মাত্র ৩.৮৪ মিটার দৈর্ঘ্যের এই মসজিদে একসাথে সাতজন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। স্থানীয়দের মতে, এর নির্মাণকাল ও প্রকৃত ইতিহাস এখনও অজানা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় পিয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত ‘এক ডিমের মসজিদ’ বা ‘গায়েবি মসজিদ’ কালের অদ্ভুত রহস্য নিয়ে আবৃত। স্থানীয়দের কাছে এটি একটি অদ্ভুত স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। মসজিদটির নির্মাণকাল, নির্মাতা এবং প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে এখনও প্রশ্ন চলে আসছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কালাইউরা গ্রামে অবস্থিত ‘এক ডিমের মসজিদ’ মাত্র ৩.৮৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২.৯৫ মিটার প্রস্থে নির্মিত
- 📌 মসজিদের গম্বুজের নিচের ব্যাস ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৩.২৭ মিটার; চার কোণে ছোট বুরুজ ও কলস নকশা
- 📌 মসজিদের প্রবেশদ্বার এত নিচু যে মাথানত করে প্রবেশ করতে হয়; ভেতরে সর্বোচ্চ সাতজন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন
- 📌 স্থানীয়দের মতে, মসজিদটি ১৩২৫-১৬২৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত হতে পারে, তবে স্থাপত্যশৈলী মোগল আমলের বলে ধারণা
- 📌 মসজিদের পুকুরের পানি স্থানীয়রা রোগবালাই থেকে মুক্তির আশায় ব্যবহার করেন; বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলো দেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
‘এক ডিমের মসজিদ’ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পিয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয়রা এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেও ডাকেন। মসজিদের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে এবং প্রবেশপথের দু’পিলারে নান্দনিক কারুকাজ দেখা যায়। মসজিদের মূল কক্ষের দৈর্ঘ্য ৩.৮৪ মিটার এবং প্রস্থ ২.৯৫ মিটার। প্রবেশদ্বার এত নিচু যে মাথানত করে প্রবেশ করতে হয়। ভেতরে এক সারিতে সর্বোচ্চ সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে এখানে পাঁচ ওয়াক্ত আজান ও জামাতে নামাজ হয়।
মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল এর বিশাল গম্বুজ। গম্বুজটির নিচের ব্যাস ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং শীর্ষবিন্দুর উচ্চতা ৩.২৭ মিটার। গম্বুজের চূড়ায় পদ্ম ও কলসের নকশা রয়েছে। চার কোণে চারটি ছোট বুরুজ বা মিনার রয়েছে, যেগুলোর চূড়াতেও কলস ও ফুলকুঁড়ির নান্দনিক কারুকাজ দেখা যায়। পশ্চিম দেয়ালের মাঝখানে রয়েছে চারকোনা মেহরাব। দেয়ালের অলঙ্করণ অনেকটা পোড়ামাটির কাজের মতো।
মসজিদের পূর্ব পাশে একটি খোলা বারান্দা রয়েছে, যেখানে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারেন। পশ্চিম পাশে দু’টি পুরনো কবরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। স্থানীয়রা মনে করেন, মসজিদের পুকুরের পানি রোগবালাই থেকে মুক্তির আশায় ব্যবহার করেন। বর্তমানে মসজিদের মেঝেতে টাইলস বসানো হয়েছে এবং সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
"প্রাচীনকালে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। তবে এর নির্মাণকাল বা নির্মাতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা নেই।"
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিনের এই কথা। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৩২৫ থেকে ১৬২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মসজিদসংলগ্ন এলাকা সুবা বাংলার বিহার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময়ের সুবেদার ইব্রাহিম খাঁর মাজার মসজিদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশল দেখে অনেকেই মনে করেন, মসজিদটি মোগল আমলের হতে পারে। সেই হিসেবে এর বয়স প্রায় ৪০০ বছর হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা প্রয়োজন।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী সুমন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমরা মসজিদটি দেখে আসছি। এর সঠিক ইতিহাস জানতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করা প্রয়োজন। এতে স্থাপনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোয়াইনঘাট উপজেলা, সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরিদ উদ্দিন, গোলাম রাব্বানী সুমন, স্থানীয় বাসিন্দা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৮৪ মিটার (দৈর্ঘ্য), ২.৯৫ মিটার (প্রস্থ), ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি (গম্বুজের ব্যাস), ৩.২৭ মিটার (গম্বুজের উচ্চতা), ৪০০ বছর (অনুমানিক বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!