📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বনরুটি খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। রুটি খাওয়ার পর পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবের শিকার হন তারা। চিকিৎসা শেষে সন্ধ্যায় ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। অভিভাবকরা খাবারের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা বনরুটি খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লহালামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবের শিকার হন তারা। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যায় তাদের অবস্থার উন্নতি হলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং বনরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের মধ্যে ৪ জন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী
- 📌 রুটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব শুরু হয়, প্রথমে স্কুলে পল্লিচিকিৎসক চিকিৎসা দেন
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা ১টায় বিতরণ করা রুটি থেকে তেলাপোকার মতো গন্ধ লেগে থাকার অভিযোগ
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখের রুটি ৩০ তারিখে দেওয়া হয়, এনজিও গাকের সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
- 📌 অভিভাবকরা স্কুল ফিডিং খাবারের সংরক্ষণ ও মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে লহালামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বনরুটি বিতরণ করা হয়। রুটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে পেট ব্যথা ও বমি বমি ভাবের কথা জানায় শিক্ষার্থীরা। পরে একে একে ১২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের পল্লিচিকিৎসকদের চিকিৎসা পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বেলা ২টার দিকে তাদের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘বনরুটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরে পেটব্যথা শুরু হয়।’ অন্য এক শিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন জানান, ‘বনরুটি খাওয়ার সময় কিছুটা তেলাপোকার মতো গন্ধ ও তেতোভাব লাগছিল। খাওয়ার পর প্রথমে মাথাব্যথা শুরু হয়। পরে পেটব্যথা শুরু হলে শিক্ষকেরা আমাদের গ্যাসের ওষুধ দেন। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়ার পর এখন সুস্থ আছি।’
সাদিয়ার বাবা মো. দুলাল বলেন, ‘বনরুটি খাওয়ার পরই আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুল থেকে খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসা শেষে এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারপরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। এতে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন। আজকের ঘটনার পর আমি আমার সন্তানকে স্কুলের খাবার খেতে নিষেধ করেছি। শিশুদের অসুস্থ করে এমন খাবার দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আবুল হায়াত বলেন, ‘পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব নিয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা দেওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে তাদের অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’
লহালামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, ‘এনজিও গাকের মাধ্যমে রেদোয়ান ফ্রুটসের সরবরাহ করা ২৯ তারিখের বনরুটি বুধবার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। রুটি খাওয়ার পর ১২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। যারা রুটি খায়নি, তাদের কাছ থেকে অবশিষ্ট রুটিগুলো নিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো আর খেতে দেওয়া হয়নি। তবে ওই দিনের রুটি খাওয়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর কোনো সমস্যা হয়নি।’
খাবার সরবরাহকারী এনজিও গাকের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী কবির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এনজিও যেসব প্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করে থাকে, সেখানে সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই প্রসেসিং শেষে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়। এখানে ত্রুটি হওয়ার কোনো মানেই হয় না।’ তবে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখের বনরুটি ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেন পরিবেশন করা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
"বনরুটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরে পেটব্যথা শুরু হয়।"
"বনরুটি খাওয়ার সময় কিছুটা তেলাপোকার মতো গন্ধ ও তেতোভাব লাগছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লহালামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আম্বিয়া খাতুন, সাদিয়া খাতুন, মো. দুলাল, মো. আবুল হায়াত, আব্দুল মান্নান, কবির উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন শিক্ষার্থী, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২৯ সেপ্টেম্বর, ১ টা, ২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!