📌 শিবচর উপজেলার ১৮ বছর বয়সী লিমন ইসলামকে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবার ২৩ লাখ টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিলো ইতালি যেতে, কিন্তু লিমন নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পরিবার দাবি, দালালের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এলাকায় আরও অনেক তরুণ লিবিয়ায় আটকা পড়েছেন বলে অভিযোগ
শিবচর উপজেলার দক্ষিণ ক্রোকচর এলাকার ১৮ বছর বয়সী লিমন ইসলামকে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবার ২৩ লাখ টাকা দিয়ে ইতালি যেতে পাঠিয়েছিলো, কিন্তু লিমন নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পরিবার আতঙ্কে ডুবে যাচ্ছে। দালালের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন লিমনের পরিবার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মায়ের স্বর্ণ বিক্রি ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২৩ লাখ টাকা দিয়ে লিমন ইসলামকে (১৮) ইতালি যাত্রা করতে পাঠানো হয়, কিন্তু লিবিয়ায় নিখোঁজ হয়ে যান
- 📌 পরিবার দাবি, দালাল আবুল বাশার লিমনকে লিবিয়ায় নিয়ে যান এবং সেখানে মাফিয়াদের হাতে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ
- 📌 সর্বশেষ ১৪ আগস্ট লিমনের সঙ্গে কথা হয়, কিন্তু এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়
- 📌 শিবচর উপজেলায় অন্তত অর্ধশত তরুণ লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে বন্দী ও নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ
- 📌 দালাল আবুল বাশারের স্ত্রী লিমনের পরিবারের বাড়িতে এসে ২৩ লাখ টাকা নেন বলে দাবি করেছেন পরিবার
📰 বিস্তারিত
শিবচর উপজেলার দক্ষিণ ক্রোকচর এলাকার গাড়িচালক সিরাজুল ইসলামের ছেলে লিমন ইসলামকে (১৮) ইতালি যাত্রা করতে পাঠানো হয়েছিল। পরিবার মায়ের স্বর্ণ বিক্রি ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ ও ধারদেনা করে ২৩ লাখ টাকা জোগাড় করে লিমনকে পাঠিয়েছিল। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ২৩ লাখ টাকা নগদ দেওয়ার পর চলতি বছরের ৪ এপ্রিল লিমন ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু ইতালি না নিয়ে লিমনকে লিবিয়ায় নিয়ে যান দালাল আবুল বাশার। সেখানে পৌঁছানোর পর দালালের বাসাতেই আশ্রয় নেন লিমন। কিন্তু দুই মাস পর একদিন হঠাৎ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর চার মাস ধরে লিমনের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবার।
লিমনের মা ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘১৪ আগস্ট শেষ কথা হয় লিমনের সঙ্গে। তখন সে দালাল আবুল বাশারের বাসায় ছিল। কথার মাঝে লাইন কেটে যায়, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। কোথায় আছে, কেমন আছে আমার লিমন, জানি না।’ লিমনের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো খোঁজ নেই। দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিইনি। এখন মামলা করব। দালাল বাশারের স্ত্রী আমাদের বাড়িতে এসে নগদ ২৩ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন দালালের বাড়িতেও লোকজন নেই। সবাই আত্মগোপন করেছে।’
লিমনের বোন লামিয়া বলেন, ‘লিবিয়ায় যাওয়ার পরই আমার ভাইকে ইতালি নেওয়ার কথা ছিল। ১৪ আগস্ট দালালের বাসায় থাকা অবস্থায় বাড়িতে কথা হয় ভাইয়ের সঙ্গে। সে ভালো আছে, এমন কথাও বলে। এক মিনিটের মতো কথা হয়। এরপর লাইন কেটে গেলে ওই নম্বরে আর ফোন ঢোকে না। ভাইরে ইতালি নিছে কি না, তাও জানি না। দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছি না।’
এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ ক্রোকচর এলাকার অনেকেই আগে ইতালি গেছেন। তাঁদের দেখাদেখি এলাকার তরুণেরা ঝুঁকি নিয়ে হলেও ইতালি যেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। দালালদের কয়েক সহযোগী এই তরুণদের প্রলোভন দেখান বলে অভিযোগ। ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করা হয়। লিবিয়ায় নেওয়ার পর দালালরা তরুণদেরকে মাফিয়াচক্রের কাছে বিক্রি করে মুক্তিপণ আদায় করে এবং বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ।
"১৪ আগস্ট শেষ কথা হয় লিমনের সঙ্গে। তখন সে দালাল আবুল বাশারের বাসায় ছিল। কথার মাঝে লাইন কেটে যায়, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। কোথায় আছে, কেমন আছে আমার লিমন, জানি না।"
— লিমনের মা ইয়াসমিন বেগম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শিবচর উপজেলা, দক্ষিণ ক্রোকচর, মাদারীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিমন ইসলাম (১৮), আবুল বাশার, ইয়াসমিন বেগম, সিরাজুল ইসলাম, লামিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ লাখ টাকা, ১৮ বছর, ১৪ আগস্ট, ৪ এপ্রিল, ২৫ লাখ টাকা, ২০-২২ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!