📌 মুঘল আমলে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খানের শাসনকালে চালের দামের বিষয়ে ইতিহাসবিদদের দাবি ও প্রমাণ নিয়ে আলোচনা। লালবাগ দুর্গের গেটের শিলালিপি থেকে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেতো কিনা তা নিয়ে গবেষকদের মতামত
মুঘল আমলে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খানের শাসনকালে চালের দামের বিষয়ে ইতিহাসবিদদের দাবি ও প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেটের শিলালিপি থেকে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেতো কিনা তা নিয়ে গবেষকদের মতামত এবং ঐতিহাসিক প্রমাণের বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শায়েস্তা খান ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেট বন্ধ করে দেন এবং সেখানে শিলালিপি রেখে দেন: "চালের মূল্য তাঁর সময়ের মত সস্তা না হওয়া পর্যন্ত এই গেট খোলা যাবে না"।
- 📌 ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ব্রাডলি বার্টের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, শায়েস্তা খানের শাসনকালে এক টাকায় ৭৪০ পাউন্ড বা আট মণ চাল পাওয়া যেতো।
- 📌 ইতিহাসবিদ ড. মোহর আলী তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, শায়েস্তা খান তার কৃতিত্বের জন্য সচেতন ছিলেন এবং শেষবারের মত ঢাকা ত্যাগ করার সময় লালবাগের পশ্চিম ফটকে শিলালিপি রেখে গেছেন।
- 📌 ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল করিমের মতে, শায়েস্তা খানের শাসনকালে চালের দাম টাকায় আট মণ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেট বন্ধ ছিল।
- 📌 শায়েস্তা খানের শাসনকালে ঢাকা মুঘলদের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয় এবং চালসহ নিত্যপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
মুঘল আমলে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খানের শাসনকালে চালের দামের বিষয়ে ইতিহাসবিদদের দাবি ও প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল করিম তার বই 'বাংলার ইতিহাস' এ উল্লেখ করেছেন যে, শায়েস্তা খানের আমলে চালের দামের বিষয়টি লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেটের শিলালিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় এই গেট বন্ধ করে দেন এবং সেখানে একটি শিলা স্থাপন করেন, যেখানে লিখে যান: "যতদিন পর্যন্ত চালের মূল্য তাঁর সময়ের মত সস্তা না হবে ততদিন এই গেট খোলা যাবে না"।
অধ্যাপক করিমের মতে, এই গেটটি অর্ধ শতাব্দী পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে ১৭৪০ সালে নবাব সরফরাজ খানের শাসনকালে চালের দাম আবার টাকায় আট মণ হলে ঐ গেট খোলা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, শায়েস্তা খানের শাসনকালে চালের দাম টাকায় আট মণ ছিল। ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ব্রাডলি বার্টের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শায়েস্তা খানের শাসনকালে চাল এত সস্তায় বিক্রি হত যে এক টাকায় ৭৪০ পাউন্ড বা আট মণ চাল পাওয়া যেতো।
ইতিহাসবিদ ড. নাসিমা হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কম ছিল। তখন টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং বিদেশী পর্যটকদের বিবরণী থেকে এর সত্যতা পাওয়া যায়"। ইতিহাসবিদদের বইয়ে উঠে এসেছে যে, চালের দাম টাকায় আট মণ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেটটি বন্ধ ছিল।
শায়েস্তা খানের শাসনকালে ঢাকা মুঘলদের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতি দমন এবং অবৈধ কর বিলোপের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিয়েছিলেন। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে শায়েস্তা খান দুই দফায় প্রায় ২২ বছর বাংলা শাসন করেছিলেন। তিনি যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে বাংলার সীমানা বাড়িয়েছিলেন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
"শায়েস্তা খান ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেট বন্ধ করে দেন এবং সেখানে একটি শিলা স্থাপন করে লিখে যান- যতদিন পর্যন্ত চালের মূল্য তাঁর সময়ের মত সস্তা না হবে ততদিন এই গেট খোলা যাবে না"
"তাঁর স্মৃতি আজো প্রদেশব্যাপী সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে তার শাসনামলে চাল এত সস্তায় বিক্রি হত যে এক টাকায় ৭৪০ পাউন্ড বা আট মন চাল পাওয়া যেতো"
"তিনি তার এই কৃতিত্বের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। তাই শেষবারের মত প্রদেশ ত্যাগের সময় তিনি জাহাঙ্গীর নগরের (ঢাকার) পশ্চিম ফটকে এই কথা উৎকীর্ণ করে দিয়েছিলেন-
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (লালবাগ দুর্গ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শায়েস্তা খান, অধ্যাপক আব্দুল করিম, ড. মোহর আলী, ড. নাসিমা হামিদ, নবাব সরফরাজ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর (শাসনকাল), ৭৪০ পাউন্ড (চালের পরিমাণ), ৮ মণ (চালের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!