📌 প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘শায়েস্তা খাঁর এক টাকা’ লেখায় শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে জনশ্রুতি ছিল। কিন্তু কৃষকের দিক থেকে দেখলে সেই ‘সুখের যুগ’ ছিল কত কঠোর তা লেখায় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে
শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে জনশ্রুতি ছিল। কিন্তু কৃষকের দিক থেকে সেই ‘সুখের যুগ’ কত কঠোর ছিল তা প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘শায়েস্তা খাঁর এক টাকা’ লেখায় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে জনশ্রুতি থাকলেও, সেই এক টাকার পেছনে কৃষকের কত কঠোর পরিশ্রম লুকিয়ে ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৮ সালের ৩১ মে প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘শায়েস্তা খাঁর এক টাকা’ লেখায় শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে জনশ্রুতি ছিল।
- 📌 লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শায়েস্তা খাঁর আমলে একজন কৃষক আট মণ চাল বিক্রি করে এক টাকা পেতেন। কিন্তু সেই এক টাকার পেছনে ১৬ মণ ধান উৎপাদন করতে হতো।
- 📌 সরকারের খাজনা ও বছরব্যাপী পণ্য ও সার্ভিস ঋণের বোঝা মেটাতে কৃষককে অতিরিক্ত ১৬ মণ ধান উৎপাদন করতে হতো।
- 📌 শায়েস্তা খাঁর আমলে কৃষি উত্পাদন ছিল খোরাকিমুখী, বাজারমুখী নয়। কৃষক উত্পাদন করতেন খোরাকির জন্য, বাজারের জন্য নয়।
- 📌 গ্রামে টাকার প্রচলন ছিল কম। কড়ি ছিল নগদ কেনাকাটার প্রধান মাধ্যম। ৪ কড়িতে ১ গন্ডা, ২০ গন্ডায় ১ পণ, ৪ পণে ১ আনা, ৪ আনায় ১ কাহন, ৪ কাহনে ১ টাকা।
- 📌 শায়েস্তা খাঁর আমলে শাসকশ্রেণির সুখ ছিল সাধারণ মানুষের নয়। কৃষক শ্রেণির জীবন ছিল অত্যন্ত কঠোর।
📰 বিস্তারিত
‘শায়েস্তা খাঁর এক টাকা’ লেখায় শায়েস্তা খাঁর আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে জনশ্রুতি থাকলেও, সেই ‘সুখের যুগ’ কৃষকের দিক থেকে কত কঠোর ছিল তা লেখায় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শায়েস্তা খাঁর আমলে একজন কৃষক আট মণ চাল বিক্রি করে এক টাকা পেতেন। কিন্তু সেই এক টাকার পেছনে কৃষকের কত কঠোর পরিশ্রম লুকিয়ে ছিল তা লেখায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শায়েস্তা খাঁর আমলে একজন কৃষক আট মণ চাল বিক্রি করে এক টাকা পেতেন। কিন্তু সেই এক টাকার পেছনে ১৬ মণ ধান উৎপাদন করতে হতো। কারণ, চালের মূল্য বেশি নয়, টাকার মূল্য বেশি। একটি টাকা অর্জনের জন্য আট মণ চাল বিক্রি করতে হতো কৃষককে। এর মানে প্রথমে তাকে ১৬ মণ ধান উত্পাদন করতে হতো। এছাড়াও, সরকারের খাজনা ও বছরব্যাপী পণ্য ও সার্ভিস ঋণের বোঝা মেটাতে কৃষককে অতিরিক্ত ১৬ মণ ধান উৎপাদন করতে হতো।
শায়েস্তা খাঁর আমলে কৃষি উত্পাদন ছিল খোরাকিমুখী, বাজারমুখী নয়। কৃষক উত্পাদন করতেন খোরাকির জন্য, বাজারের জন্য নয়। প্রয়োজনীয় খোরাকি-ফসলের প্রায় সমপরিমাণ ফসল উত্পাদন করতে হতো সরকারের খাজনাপাতি ও বছরব্যাপী নেওয়া পণ্য ও সার্ভিস ঋণ পরিশোধ করার জন্য। খোরাকি অর্থনীতিতে নগদ টাকার খেলা ছিল কম। গ্রামের মানুষের চাহিদা গ্রামেই মেটানোর ব্যবস্থা সমাজ গড়ে তুলেছিল। তাঁতি, নাপিত, কামার, কুমার, শিক্ষক প্রভৃতি পেশাদার মানুষ সার্ভিস প্রদান করতেন কৃষিপণ্যের বিনিময়ে।
লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শায়েস্তা খাঁর আমলে শাসকশ্রেণির সুখ ছিল সাধারণ মানুষের নয়। কৃষক শ্রেণির জীবন ছিল অত্যন্ত কঠোর। শায়েস্তা খাঁর আমলে শুধু পণ্য নয়, মানুষও চালের মতো সস্তায় বিক্রি হতো হাটে। ইবনে বতুতা পরম খুশি হয়েছিল এক টাকায় দুজন সুন্দরী মেয়ে কিনতে পেরে। কিন্তু সেই এক টাকার পেছনে কৃষকের কত কঠোর পরিশ্রম লুকিয়ে ছিল তা লেখায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
"আমি তাকাতে চাই ক্রেতার দিক থেকে নয়, বিক্রেতার দিক থেকে। চাল বিক্রেতা অর্থাৎ শায়েস্তা খাঁর আমলের কৃষক কত চাল হাটে তুলে কত টাকা পাচ্ছেন?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (প্রকাশনা স্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শায়েস্তা খাঁ, কৃষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ মে (২০০৮), ১৬ মণ, ৪ কড়ি, ১ গন্ডা, ২০ গন্ডা, ১ পণ, ৪ পণ, ১ আনা, ৪ আনা, ১ কাহন, ৪ কাহন, ১ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!