📌 শরীয়তপুরে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানোর পর সাংবাদিক বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে পলাশ সরদারের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়
শরীয়তপুর শহরের আমিনবাগ এলাকায় অবস্থিত শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানোর পর সাংবাদিক বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মারধরের ফলে তাঁর ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রোববার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাংবাদিক বি এম ইসরাফিলের ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে মারধরের ফলে
- 📌 প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানানোর পর হামলা চালানো হয়
- 📌 হামলার নেতৃত্ব দেন প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদার
- 📌 জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার রাতে প্রেসক্লাবের তিন দিকের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়
- 📌 সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুর জেলা শহরের পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনবাগ এলাকায় অবস্থিত শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল। তাঁর প্রতিবাদ পোস্টে প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন সরদার ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি যুক্ত করেন তিনি। এর জেরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরাফিল বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি শোনার পর তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রেসক্লাব সভাপতিকে জানিয়ে সীমানাপ্রাচীর ভাঙা হয়েছে। আমি তাঁদের ছবি দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদ করি। এর জেরেই আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ সরদার ও তাঁর লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। অন্য সাংবাদিকেরা কাছে না থাকলে তাঁরা আমাকে মেরে ফেলতেন।’
ঘটনার পর পলাশ সরদার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন সরদার জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ছেলে ও অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনাটিতে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং তাঁর সন্তানকে বিচারের মুখোমুখি করবেন।
‘আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনা করার কারণে পলাশ ও তাঁর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমি জানতাম না সাংবাদিক ইসরাফিলের ওপরে হামলা করা হবে। ঘটনাটিতে আমি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। এ ঘটনার জন্য আমার সন্তানকে বিচারের মুখোমুখি করব।’ — আবুল হোসেন সরদার, প্রেসক্লাব সভাপতি
শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের তিন দিকের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। প্রেসক্লাবের নামে ১৯৯৮ সালে জেলা প্রশাসন ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয়। এরপর জেলা পরিষদের অর্থায়নে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি প্রেসক্লাবের জমিতে ‘শরীয়তপুর পার্ক’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। শনিবার রাতে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম সেখানে যেতে চাইলে সাংবাদিকেরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করেন।
‘শরীয়তপুরের সাংবাদিকদের বরাদ্দ দেওয়া জমিটি ভিপি। সেখানে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। যার জন্য তাদের অন্যত্র একটি জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রশাসনের পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রেসক্লাবের ওই জমি আমরা নিতে চেয়েছিলাম। সেটির সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়টি প্রেসক্লাবের সভাপতিকে জানানো হয়েছিল। যেহেতু সাংবাদিকেরা ওই জমি ছাড়তে চাচ্ছেন না, তাই আমরা সেখানে আগের মতো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দেব।’ — তাহসিনা বেগম, জেলা প্রশাসক
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তানভীর হোসেন জানান, প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তবে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ পাশে থাকবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আমিনবাগ, শরীয়তপুর জেলা শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বি এম ইসরাফিল (সাংবাদিক), আবুল হোসেন সরদার (প্রেসক্লাব সভাপতি), পলাশ সরদার (আবুল হোসেনের ছেলে), তাহসিনা বেগম (জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (পৌরসভার ওয়ার্ড), ১৪ (শতাংশ জমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!