📌 হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়াম চারটি আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এখন তাদের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ মাপকাঠি পরীক্ষা করছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটি বিমান বাংলাদেশের পাশাপাশি যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করবে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়াম বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য চারটি আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেয়ার উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ মাপকাঠি পরীক্ষা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানি কনসোর্টিয়ামের মনোনীত ৪টি প্রতিষ্ঠান: যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা
- 📌 বেবিচক সদস্য আবু সাঈদ মাহবুব খান বলেছেন, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটি বিমান বাংলাদেশের পাশাপাশি তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করবে
- 📌 কার্গো হ্যান্ডলিং একচেটিয়াভাবে বিমান বাংলাদেশের অধীন থাকবে, কিন্তু যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান করবে
- 📌 মেনজিসের প্রস্তাবে ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এবং ১ হাজার বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানান, মনোনীত চারটি প্রতিষ্ঠান হলো: যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডানাটা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে বিমান বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচন করা হবে। বেবিচক কর্তৃপক্ষ এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ মাপকাঠি পরীক্ষা করছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বাজারে প্রবেশের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচিত আন্তর্জাতিক অপারেটর তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি কাজ করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিং একচেটিয়াভাবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির অধীনেই থাকবে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় রয়েছে উড়োজাহাজের সেবা কার্যক্রম, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রী চেক-ইন, র্যাম্প পরিচালনা এবং উড়োজাহাজের টার্ন এ্যারাউন্ড কার্যক্রম। এসব কার্যক্রম সেবার মান, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। শিল্প খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কেবল আরেকটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের পর্যায় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পরিচালনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
"প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বেবিচকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত বা অন্যান্য উদ্বেগের মুখে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে দেখবে।"
চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকেরই আন্তর্জাতিক পরিসর, পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা এবং কারিগরি সক্ষমতার ভিন্ন ভিন্ন সমন্বয় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মেনজিস ৬৫টি দেশের ৩৪৭টি বিমানবন্দরে, সুইসপোর্ট প্রায় ৪৪ থেকে ৪৯টি দেশের প্রায় ৩১০টি বিমানবন্দরে, ডানাটা ৩৫টি দেশের ১৪৬টি বিমানবন্দর বা স্থানে এবং সেলেবি পাঁচটি দেশের ৬০টিরও বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের সংখ্যা যথাক্রমে মেনজিসের ৬৫ হাজার, সুইসপোর্টের ৪৩ হাজার, ডানাটার ৫৫ হাজার এবং সেলেবির ৯ হাজার।
মেনজিসের প্রস্তাবটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। কারণ, এতে স্থানীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং কর্মী উন্নয়নের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সদর দপ্তরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিনিয়োগের আওতায় থাকবে গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, বিমান চলাচল প্রযুক্তি, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচালনাগত সক্ষমতা। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ১ হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান (বেবিচক সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪টি মনোনীত প্রতিষ্ঠান; ৬৫টি দেশে মেনজিসের কার্যক্রম; ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!