📌 ২০০২ সালে ঢাকার মিরপুরের হজরত শাহ আলীর মাজারে সাইমন জাকারিয়ার গাজির গানের রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে অনুষ্ঠিত গাজির গানের আসরে গায়েন ওয়াহেদ আলী, ঢোলকবাজ তৈয়ব আলী, হারমোনিয়ামবাজ লালচান এবং জুড়িদার আলীমের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা তিনি লিখেছেন
২০০২ সালের এক সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের হজরত শাহ আলীর মাজারে সাইমন জাকারিয়ারের অভিজ্ঞতা ছিলো এক রহস্যময় রাতের গল্প। সাইমন জাকারিয়ারের লেখা ‘প্রণমহি বঙ্গমাতা: ঢাকার মাজারে গাজির গান’ শিরোনামে এই অভিজ্ঞতা আজও পাঠকদের মনকে আকর্ষণ করছে। সে সময় ঢাকার বিভিন্ন মাজারে ঘুরতে যাওয়ার অভ্যাস ছিলো তার। কিন্তু হজরত শাহ আলীর মাজারটি তার মনকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০২ সালে ঢাকার মিরপুরের হজরত শাহ আলীর মাজারে সাইমন জাকারিয়ার গাজির গানের আসরে অংশগ্রহণ করেন এবং তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
- 📌 বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে অনুষ্ঠিত গাজির গানের আসরে গায়েন ওয়াহেদ আলী (৬০ বছর), ঢোলকবাজ তৈয়ব আলী (১৬ বছর), হারমোনিয়ামবাজ লালচান (৩০ বছর) এবং জুড়িদার আলীম (১০ বছর) অংশগ্রহণ করেন।
- 📌 মাজারের মূল উঠানে বসে গাজির গানের আসরে অংশগ্রহণকারীদের চারপাশে দর্শক-ভক্তদের ঘেরা অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- 📌 গাজির আশার মাথায় ফুলের মালা, তসবি এবং পাদদেশে আগরবাতি ও মোমের আলো জড়িয়ে ছিলো।
- 📌 হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ভক্তরা মাজারে আসতেন এবং গাজির গানের আসরে অংশগ্রহণ করতেন।
📰 বিস্তারিত
সাইমন জাকারিয়ার ২০০২ সালের আগস্টের এক সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের হজরত শাহ আলীর মাজারে গাজির গানের আসরে উপস্থিত হন। তিনি লিখেছেন, মাজারের প্রধান গেট দিয়ে ঢুকেই একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে লালনের গান শুনেছিলেন। তারপর পশ্চিম দিকের রাস্তা ধরে হেঁটে জলাশয় পার হয়ে পীর-ভক্তদের আসরে গিয়ে জিকির আর ভক্তির গান শুনে শুনে মাজারের মূল উঠানে ফিরে আসেন।
মাজারের মূল উঠানে বসে তিনি একটি গাজির গানের আসর দেখতে পান। সেখানে ধুতি পরা এক বৃদ্ধ গায়েন সাদা পাঞ্জাবি গায়ে চড়িয়ে পরনের আঁচল তুলে ধরে চামর দুলিয়ে নাচতেই গাজির গান গাইছিলেন। সাইমন জাকারিয়ার তার টেপ রেকর্ডার চালু করে সেই আসরের গান রেকর্ড করেন। গাজির গানের আসরটি ছিলো একক অভিনয়রীতির নয়, কারণ আসরজুড়ে বাদ্যকর হিসেবে ঢোলক ধ্যানমগ্ন হয়ে তাল সংগত করছিলেন, সঙ্গে মন্দিরায় জুড়িদার হয়ে উঠেছিলেন আরেকজন এবং অন্যজন হারমোনিয়াম বাজিয়ে সুরের ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
সাইমন জাকারিয়ার লিখেছেন, রাতে এশার আজান শোনা যেতেই আসরে কিছু বিশ্রাম পড়ল। তিনি গায়েন-বাদ্যকর-দোহারদের পরিচয় লিপিবদ্ধ করেন। গায়েন ওয়াহেদ আলীর বাড়ি সাভার থানার কবিরপুর নবীনগরে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজির গান গেয়ে আসছেন। তার গুরুর নাম এবাদুল্লাহ শাহ। ঢোলকবাজ তৈয়ব আলী ও হারমোনিয়ামবাজ লালচানের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর-বন্যাপাড়া গ্রামে। আলীমের বাড়ি ওয়াহেদ আলীর নাতি, তাই তাঁদের মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই।
"আল্লাহ নবীর নাম নিয়ে আসরেতে দাঁড়াইলাম ; বিসমিল্লাহ বলিয়া বুকের জবান খুলিলাম..."
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হজরত শাহ আলীর মাজার, মিরপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইমন জাকারিয়ার, ওয়াহেদ আলী, তৈয়ব আলী, লালচান, আলীম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর (ওয়াহেদ আলী), ১৬ বছর (তৈয়ব আলী), ৩০ বছর (লালচান), ১০ বছর (আলীম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!