📌 ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দেওয়া প্যাকেটজাত দুধ খাওয়ার পর ৩১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ২৯ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হলেও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ খাওয়ার পর ৩১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ২৯ জন এখনো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দুপুরে মধুপুর–১ ও মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুধ ও বানরুটি খাওয়ার পর বমি ও পেটব্যথার শিকার হয়। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হলেও পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩১ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং দুধ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের মধ্যে ২৯ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি।
- 📌 দুধ খাওয়ার পর বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়, প্রাথমিক চিকিৎসা বিদ্যালয়েই দেওয়া হলেও অবস্থা অবনতির কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
- 📌 ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি সোমবার ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হয়, যা সরাসরি পানযোগ্য।
- 📌 রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড সরবরাহকৃত দুধের মান নিয়ে আগে কোনো অভিযোগ ছিল না, কিন্তু শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
- 📌 ২৮ শিক্ষার্থী মধুপুর–১ বিদ্যালয় থেকে এবং ৩ শিক্ষার্থী মধ্য গোয়ালকারী বিদ্যালয় থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর–১ ও মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দেওয়া প্যাকেটজাত দুধ ও বানরুটি খেয়েছিলেন। দুধ খাওয়ার খানিক পরই শিক্ষার্থীদের বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার তুষার চন্দ্র সিংহ জানান, বেলা তিনটার মধ্যে ৩১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জন এখনো ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়ের তথ্য অনুযায়ী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চলছে। প্রতি সোমবার শিক্ষার্থীদের বানরুটির সঙ্গে ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা প্যাকেটজাত দুধ দেওয়া হয়। এই দুধ সরাসরি পানযোগ্য। তবে এইবার দুধের স্বাদ তিতা লাগার কারণে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতা শুরু হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
মধুপুর–১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, “দুধের প্যাকেট খোলার পর স্বাদ তিতা লাগছিল। স্যার ও ম্যামকে বললাম, কিন্তু তারা খেয়ে নিতে বললেন। এরপর বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহিল সাফি জানান, “আমি দিনাজপুর যাচ্ছিলাম। অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছি। দুধের প্যাকেটের দুধ বাইরে থেকে দেখে নষ্ট কি না, তা বোঝার উপায় ছিল না।”
দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী জাকারিয়া আমান বলেন, “আমাদের সরবরাহ করা দুধের মান নিয়ে আগে কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে কেউ খালি পেটে দুধ পান করলে বমি বমি ভাব হতে পারে। হয়তো কোনো শিক্ষার্থী খালি পেটে দুধ খেয়ে বমি করেছে। আর তা দেখে অন্যরা অস্বস্তি বোধ করেছে।”
"বেলা তিনটা পর্যন্ত ৩১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই বমি করছিল এবং অনেকে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত ছিল। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হলেও পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।"
— বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আহাদুজ্জামান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়, মেডিক্যাল অফিসার তুষার চন্দ্র সিংহ, প্রকল্প সমন্বয়কারী জাকারিয়া আমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ শিক্ষার্থী অসুস্থ, ২৯ জন ভর্তি, ১৩৮টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং, ২০০ মিলিলিটার দুধ প্রতি শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!