📌 সৌদি আরবের রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত রাজশাহীর শ্যামল উদ্দিন মাঝির (৪৬) মৃতদেহ কফিনবন্দী অবস্থায় দেশে ফিরেছে। আট বছর পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই কন্যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে
রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬) সৌদি আরবের রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার পর তাঁর মৃতদেহ কফিনবন্দী অবস্থায় দেশে ফিরেছে। আট বছর আগে প্রবাসে গিয়ে আর দেশে ফেরা হয়নি তাঁর। আগস্টের ১৪ তারিখ দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর, যাতে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারেন। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় ৯ আগস্টের সেই অগ্নিকাণ্ডে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬) সৌদি আরবের রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন
- 📌 তাঁর মৃতদেহ কফিনবন্দী অবস্থায় দেশে ফিরেছে ভোর বেলায়
- 📌 আট বছর পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য
- 📌 ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল
- 📌 পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই কন্যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থান করছিলেন। সেখানে একটি সোফা তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। প্রবাস জীবনের কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ পরিবারের জন্য পাঠাতেন নিয়মিত। স্ত্রী রশিদা বিবি ও তিন কন্যার ভবিষ্যৎ গড়াই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর বড় মেয়ের বিয়ে ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই আগস্টেই দেশে ফিরে মেজো মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তাঁর মেয়ে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যা ছিল তাঁর পরিবারের জন্য আনন্দের সংবাদ।
কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন অকালেই শেষ হয়ে যায় গত ৯ আগস্ট রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। সেই ঘটনায় মোট ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান, তাঁদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝিও। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই কন্যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শ্যামলের মৃতদেহ দেশে ফিরে আসার পর ভোর বেলায় তাঁর গ্রাম ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় পৌঁছায়। কফিন খোলার আগেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ির পরিবেশ। বেলা ১১টার দিকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামলের প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় তিন কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিবারটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।
"শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাঁর তিনটিই মেয়ে রয়েছে। পরিবারটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর বাগমারা, ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬), স্ত্রী রশিদা বিবি, তিন কন্যা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ বছর, ৯ আগস্ট, ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!